kalerkantho


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজতত্ত্ব বিভাগের একাডেমিক সভা

শিক্ষকের অনুপস্থিতির খেসারত দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের

মোবারক আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



শিক্ষকের অনুপস্থিতির খেসারত দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সমাজতত্ত্ব বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় কোরাম সংকটের কারণে সিদ্ধান্তহীনতায় আটকে আছে বিভিন্ন বর্ষের ক্লাস, পরীক্ষা ও ফিল্ড ওয়ার্ক। তিন মাস ধরে চলছে এ অবস্থা। এর ফলে সেশনজট সৃষ্টি হচ্ছে। আর এই কোরাম সংকটের নেপথ্যে বিভাগে উপস্থিত থেকেও সভায় যোগ না দেওয়া শিক্ষকদের দায়ী করেছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, গত ২০ নভেম্বরের নোটিশ অনুযায়ী ২৭ নভেম্বর একাডেমিক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা আহ্বান করেন সমাজতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মনিরুল হাসান। কিন্তু ওই সভায় ২১ শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ছয়জন উপস্থিত ছিলেন। কমপক্ষে ১১ শিক্ষকের উপস্থিতি না থাকায় সভায় কোরাম সংকট হয়। পরে আবার ২৯ নভেম্বর (মুলতবী সভা) আহ্বান করা হয়। এ দিনও আটজন শিক্ষক উপস্থিত থাকায় কোরাম সংকট হয়।

সভায় উপস্থিত থাকা শিক্ষকেরা হলেন সভাপতি অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান, অধ্যাপক ড. ইন্দ্রজিৎ কুণ্ডু, সহকারী অধ্যাপক পারভীন সুলতানা, ড. এ বি এম নাজমুল ইসলাম খান, সহকারী অধ্যাপক শাম্মী আকতার, ফাতেমা-তুজ-জোহরা, মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ও বসুমিত্র চাকমা। অন্যদিকে ১৩ জন শিক্ষক বিভাগে উপস্থিত থেকেও একাডেমিক সভায় আসেননি। না আসার কারণও বিভাগের সভাপতিকে তাঁরা জানাননি।

এর প্রেক্ষিতে ৩ জানুয়ারি সভাপতি উপাচার্য বরাবর চিঠি পাঠান। পরে জানুয়ারি মাসের ৩য় সপ্তাহে উপাচার্য দপ্তর থেকে সভাপতিকে ফোন করে জানানো হয় বিষয়টি সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদ দেখবেন। কিন্তু এর তিন সপ্তাহ পার হলেও সংকটের কোনো সমাধান হয়নি।

সূত্র জানায়, সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসানের সভাপতির দায়িত্ব আর এক মাস আছে।

অধ্যাপক মনিরুল হাসান বলেন, ‘কারো কারো ব্যক্তিগত ইচ্ছার কারণেই সভাটি হচ্ছে না। আমি যতটুকু শুনেছি জুনিয়র শিক্ষকদের সভায় না আসার জন্য প্রভাবিত করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রথম বর্ষের ক্লাস, দ্বিতীয় বর্ষের ফিল্ড ওয়াক, চতুর্থ বর্ষের ফিল্ড ওয়ার্ক ও পরীক্ষা সিদ্ধান্তহীনতার কারণে নেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা রুটিন অনুযায়ী ৩ জানুয়ারি হওয়ার কথা থাকলেও স্থগিত করতে বাধ্য হই।’

এদিকে বিভিন্ন বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে সেশন জটের ওপর ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে আমাদের বিভাগের কোনো কোনো শিক্ষক ব্যক্তি স্বার্থে একাডেমিক কমিটির সভায় আসেন না। যার ফলে তিন মাস ধরে ক্লাস, ফিল্ড ওয়ার্ক ও পরীক্ষা যথাসময়ে হচ্ছে না। আর আমাদের পড়তে হচ্ছে সেশনজটের কবলে।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বিষয়ে তিন মাস ধরে সমস্যা চলছে। বিষয়টি আমাকে বিভাগের চেয়ারম্যান বা কোনো শিক্ষক বলেননি। আমাকে উপাচার্য দপ্তর থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে এ বিষয়ে চিঠি পেয়েছি। আমি শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলছি ও বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করছি।’

বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. লিয়াকত আলীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আমিনুর রহমান বলেন, ‘এটি একাডেমিক বিষয়। আমি কেন সভায় যাইনি, এ বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না।’

সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে যেতে পারিনি। তবে বিষয়টি সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন স্যার দেখছেন কেন সভায় কোরাম সংকট হয়েছিল।’

সহকারী অধ্যাপক আসমা আক্তার আঁখি বলেন, ‘আমি ওই দুিদন ছুটিতে ছিলাম।’

অন্যদিকে সমাজতত্ত্ব বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইন্দ্রজিৎ কুণ্ডু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন প্রণীত হয়। আইন অনুসারে একাডেমিক ও প্ল্যানিং কমিটির সভায় উপস্থিত থাকা সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বাধ্যতামূলক। সভায় অনুপস্থিত থাকা শিক্ষকরা বঙ্গবন্ধু প্রণীত আইনকে লঙ্ঘন করছেন।’



মন্তব্য