kalerkantho

ব্যর্থ ব্যাংকচোরের গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১২ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ব্যর্থ ব্যাংকচোরের গল্প

নষ্ট করার আগে ব্যাংকের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া চোরের তৎপরতা।

মোহাম্মদ মহিউদ্দিন হাসান। টাকা চুরি করতে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে ঘুরেছেন। নির্ঘুম রাত পার করেছেন। কিন্তু কোনো রকমেই ভল্ট ভাঙতে পারেননি। বিপুল টাকার মালিক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি। ধরা পড়েছেন পুলিশের হাতে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তাঁর স্থান হয়েছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আল ইমরানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মহিউদ্দিন হাসান। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি নিজের অপকর্মের কথা স্বীকার করেছেন।

মহিউদ্দিন হাসানকে শনিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করেন চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ইলিয়াস খান। তার সঙ্গে ছিলেন ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক তদন্ত জহির হোসেন। তাদের একটি দল প্রায় এক মাস অনুসন্ধান চালিয়ে হাসানকে ধরতে সমর্থ হন।

মহিউদ্দিন হাসান (৩১) রাউজান উপজেলার গুজরা ইউনিয়নের নোয়াপাড়ার মৃত মোহাম্মদ ইলিয়াছের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে টাকা চুরি ও ইয়াবা পাচারসহ ঢাকা চট্টগ্রামের থানায় ছয়টি মামলা আছে।

মহিউদ্দিন হাসানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি কোরানে হাফেজ। দুবাই প্রবাসে ছিলেন। সেখানকার একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফাইনান্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ করে দক্ষতা অর্জন করেন।

দুবাইয়ে একজনের সঙ্গে অংশীদারি ব্যবসা করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে বাংলাদেশে এসেও ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হন। এর পর তিনি ইয়াবা পাচারে জড়িয়ে গ্রেপ্তার হন।

চার মাস জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ঢাকার ‘চাল-ডাল’ নামের একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ওই প্রতিষ্ঠানের ছয় লাখ ৬০ হাজার টাকা চুরি করে চট্টগ্রামে পালিয়ে আসেন। এই ঘটনায় ঢাকার

মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।

চট্টগ্রামে ফিরে তিনি ব্যাংক চুরির পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চুরির সরঞ্জাম ক্রয় করেন। এরপর সিটি ব্যাংকের আগ্রাবাদ ও জিইসি শাখায় প্রবেশ করেন। গ্রাহক সেজে ব্যাংকের বাথরুমে প্রবেশ করেন এবং সিলিংয়ের ভেতরে লুকিয়ে থাকেন। ব্যাংকের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর রাতে বাথরুম থেকে বের হয়ে এসে ব্যাংকের ভেতরের সিসি ক্যামেরা এবং অ্যালার্ম সিস্টেম বন্ধ ও নষ্ট করে দেন। কিন্তু সারারাত চেষ্টা করেও ভল্ট ভাঙতে পারেননি। তাই ভোরে বাথরুমের অ্যাডজাস্ট ফ্যান ভেঙে বেরিয়ে যান। একইভাবে আগ্রাবাদের এবি ব্যাংক শাখায়ও চুরির চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরীর নজরে আসার পর প্রহরী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে দেয়। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সামনে আকস্মিকভাবে পড়ে দিয়ে অজ্ঞান হওয়ার ভান করেন তিনি। ফলে ব্যাংক কর্মকর্তারা তাঁকে গ্রাহক ভেবে শুশ্রূষা করে ব্যাংক থেকে বের করে দেন।

এর পর রাউজানের একটি ব্যাংকেও একই কায়দায় চুরির চেষ্টা করেন মহিউদ্দিন হাসান। সেখানেও তিনি ব্যর্থ হন। কিন্তু এরই মধ্যে পুলিশ তাকে খুঁজতে শুরু  করে। এমন তথ্য তিনি জানতে পারেন। তাই গ্রেপ্তার এড়াতে নিজের অ্যানড্রয়েড ফোন বাদ দিয়ে সাধারণ মানের ফোন ব্যবহার ও ছদ্মবেশে নগরের অলিগলিতে রাতযাপন শুরু করেন। এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আবারও ইয়াবা কারবার শুরু করেন।

সর্বশেষ শনিবার গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে নগরের লালখানবাজার এলাকা থেকে এক হাজার ৪২০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর নিজের অপকর্ম স্বীকার করেন। মহিউদ্দিন হাসান চুরির চেষ্টা করেছেন-এমন ব্যাংকগুলোতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বেশ কিছু চুরির সরঞ্জাম জব্দ করেছে।



মন্তব্য