kalerkantho


তৈলারদ্বীপ সেতুতে বাড়তি টোল প্রতিবাদ করলে জোটে মারধর

উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)   

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বাঁশখালী-আনোয়ারা সড়কের তৈলারদ্বীপ সেতুতে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে। এ অভিযোগ প্রতিদিনের হলেও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সেতুর ইজারাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। গাড়িচালক ও শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে উল্টো ইজারাদারের লোকজন হামলা-মারধর করে। সর্বশেষ ৪ নভেম্বর বাড়তি টোল আদায়ের প্রতিবাদ করায় বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিনকে মারধর করে তাঁর কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনি ওই অভিযোগে ইজারাদারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, সেতুতে যাত্রীবাহী বাসের টোল ৩০ টাকা হলেও বিভিন্ন উপজেলার বাস থেকে অতিরিক্ত ৫০ থেকে ১০০ টাকা আদায় করা হয়। ভারী ট্রাকে ১৫০ টাকার স্থলে ৩০০, মিনি পিকআপে ৬০ টাকার স্থলে ১৫০, মিনি ট্রাকে ১১০ টাকার স্থলে ১৫০ টাকা নিচ্ছে সেতুর ইজারাদারের লোকজন।

মামলার বাদী মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমি বান্দরবান জেলার লামা উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার। ওই আদালতের বিচারকের বদলিজনিত কারণে তাঁর বাসার আসবাবপত্রসহ যাবতীয় মালামাল গাড়ি করে ৪ নভেম্বর চকরিয়া-পেকুয়া-বাঁশখালী সড়কের তৈলারদ্বীপ সেতু পার হচ্ছিলাম। ওই সময় আসবাবপত্রসহ গাড়িটি পার হতে ৫ হাজার টাকা দাবি করে সেতুর ইজারাদারের লোকজন।’

‘গাড়িটিতে ম্যাজিস্ট্রেট স্যারের মালামাল রয়েছে জানিয়ে আমি অতিরিক্ত টোল দেব না বলার সাথে সাথে গালিগালাজ করতে করতে আমাকে ব্যাপক মারধর করে ওরা। পকেটে থাকা টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়, শার্ট-প্যান্ট ছিড়ে দেয়। পরে আমি আনোয়ারা থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে ইজারাদার রোকন উদ্দিন এবং টোল প্লাজার শ্রমিক আবুল কাশেম, আবুল হাশেম, হেলাল্ উদ্দিন, ইমরান ও রাব্বির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা ২৭৪ দায়ের করি। আদালত আনোয়ারা থানার ওসিকে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই প্রেক্ষিতে আনোয়ারা থানায় ৬ নভেম্বর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ এখনো আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।’ যোগ করেন মেজবাহ।

আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দুলাল মাহমুদ বলেন, ‘টোল নিয়ে জটিলতার কারণে মামলাটি হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্তে বাদী ও সাক্ষীকে ডাকা হয়েছে। তাঁদের সাথে কথা বলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হবে।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ইজারাদারের অতিরিক্ত টোল আদায় এবং গাড়ির শ্রমিকদের হয়রানির প্রমাণ পাওয়া গেলে ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল কিংবা বড় জরিমানা বা নিরাপত্তা জামানত সরকারি কোষাগারে জমা হবে। ইজারাদারের কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।’

মেসার্স এস এফ আর এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার রোকন উদ্দিন বলেন, ‘টোল প্লাজায় আমরা কোনো ধরনের অতিরিক্ত টোল আদায় করছি না এবং কাউকে মারধরও করছি না। আমাদের সিসি ক্যামরা আছে। সব কিছু সিসি ক্যামেরায় সংরক্ষিত হয়। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।’

সিসি ক্যামেরায় হয়রানি ও মারধরের চিত্র মুছে দেওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক নয়। তবে সিসি ক্যামেরায় সবকিছু ধারণ করা হয় না।’



মন্তব্য