kalerkantho


শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

ফটিকছড়িতে ৮১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

আবু এখলাছ ঝিনুক, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)   

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



উপজেলার ৮১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নেমে এসেছে স্থবিরতা। শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে জোর দাবি শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সমাজের।

ফটিকছড়ি প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ২২৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮১টি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য। গত ৫-৬ বছর ধরে এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ৮১ প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকলেও এর মধ্যে ১৮ বিদ্যালয়ে মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষক দ্বারা পাঠদান সচল থাকলেও দাপ্তরিক কাজে চরম ব্যাঘাত ঘটছে।

ফটিকছড়ি দুর্গম এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট আরো প্রকট। এমনও বিদ্যালয় রয়েছে যেখানে মাত্র ৩ জন শিক্ষক শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। উপজেলার শ্বেতছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, মাত্র ৩ জন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১ জন প্রধান শিক্ষক, ১ জন সহকারী শিক্ষক, অন্যজন খণ্ডকালীন শিক্ষক। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫০ জন। এসব শিক্ষার্থীকে মাত্র দুজন শিক্ষক পাঠদান করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে কোনো শিক্ষক যেতে চান না। আবার যোগদান করলেও বেশি দিন থাকেন না। শিক্ষা অফিসে তদবির করে বদলি হয়ে যান। কেউ কেউ ডেপুটেশনে চলে যান অন্যত্র। শিক্ষক সংকটে খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে চলে পাঠদান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিমেল কদর জানান, ৮১ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ২০১৩ সালে সারাদেশে ২৬ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়। তখন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা ১৮ প্রধান শিক্ষকের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকায় তাঁরা প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেলের আওতায় আসেননি। তাই তাঁরা আদালতে রিট করেন। মামলা সংক্রান্ত জটিলতার জন্য উপজেলার ১৮ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ বা পদোন্নতি হতে পারে বলে তিনি জানান।



মন্তব্য