kalerkantho


হঠাৎ এসে নৌকার মাঝি হতে দৌড়ঝাঁপ

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



হঠাৎ এসে নৌকার মাঝি হতে দৌড়ঝাঁপ

আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ কিংবা দলের অন্য কোনো অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে কোনো সময় জড়িত না থেকেও চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড সংসদীয় আসনে ‘নৌকার মাঝি’ হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বেশ কয়েকজন। এঁদের সঙ্গে নির্বাচনী মাঠের সাধারণ জনগণের তেমন কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও শুধু অর্থ-বিত্তের জোর ও তদবিরে ভরসা করে দলের মনোনয়ন পেতে ছোটাছুটি করছেন বলে মনে করেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মহাজোটের শরিক দলগুলোর নেতারাও।

জানা গেছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ থেকে সীতাকুণ্ড আসনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন ৮ থেকে ১০ জন। তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মনোনয়ন পাবেন বলে জোর আশাবাদী। কিন্তু এসব মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে মাত্র কয়েকজনের সঙ্গে দল ও এলাকার মানুষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা মনে করেন। বেশ কয়েকজন আছেন যাঁরা কোনোদিন রাজনীতি বা এলাকার সমাজসেবামূলক কাজেও সম্পৃক্ত ছিলেন না। কিন্তু তাঁরা শুধু টাকা ও তদবিরের জোরে হাতিয়ে নিতে চান মনোনয়ন।

এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে সীতাকুণ্ডে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে তাঁরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম আল মামুন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দুই যুগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা মোস্তফা কামাল চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, হায়দার আলী প্রমুখ। আরো কয়েকজন নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কয়েকমাস আগে থেকে প্রচার শুরু করলেও তাঁদের নেই কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা জনসম্পৃক্ততা। এর পরও তাঁরা নৌকার মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করায় এবং আওয়ামী লীগের টিকিট চাওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ নিয়ে বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের শরিক দলের নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডে কোনো সময় কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত না থেকেও বেশ কজন সম্প্রতি মাঠে-ময়দানে ভোট চেয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এবং মনোনয়নপ্রত্যাশা করছেন। তাঁদের অন্যতম মোহাম্মদ ইমরান ও পারভেজ উদ্দিন সান্টু। এ দুজনই বিশিষ্ট শিল্পপতি। ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁরা সফল। কিন্তু রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা কখনো চোখে পড়েনি। আওয়ামী লীগের কোনো পদ-পদবিতেও নেই তাঁরা। তবু তাঁরা নির্বাচন করতে চান।

এ প্রসঙ্গে সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এমন দল নয় যে রাস্তা-ঘাট থেকে ধরে এনে কাউকে এমপি বানাতে হবে। আমি ২৫ বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছি। বারবার মনোনয়ন চেয়েও পাইনি। তবু দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাইনি। কিন্তু যাঁরা কোানোদিন কোনো আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন না, রাজনীতির আশপাশেও ছিলেন না, তাঁদের অনেককে এখন দেখছি মনোনয়নপ্রত্যাশী তাঁরা। তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই এমন কাউকে মনোনয়ন দিলে আমরা মেনে নেবে না।’

সীতাকুণ্ড উপজেলা চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম আল মামুন বলেন, ‘এখন দলের সুসময়। তাই দুধের মাছিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা কোনরকম ঘাত-প্রতিঘাত না পেরিয়েই এমপি হতে চান!’ তবে রাজনীতির সঙ্গে নেই এমন কাউকে দল মনোনয়ন দেবে না বলেই মনে করছেন তিনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জয়নাল আবেদীন সুজা বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক মানুষ। সারাজীবন রাজনীতি করে গেছি। এখন দেখছি রাজনীতির সঙ্গে কোনোদিনও ছিলেন না এমন মানুষ এমপি হতে চাইছেন। এভাবে কেউ এমপি হলে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতাশ হন।’

এদিকে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, মহাজোটের শরিকরাও চান মহাজোট থেকে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিই মনোনয়ন পাক।

চট্টগ্রাম জেলা ন্যাপ (ভাসানী) সভাপতি সন্তোষ লাল চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির সীতাকুণ্ড উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, ইসলামিক ফ্রন্ট উপজেলা সভাপতি মাওলানা আবদুল মন্নান, জাতীয় পার্টির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম প্রমুখ তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাকেই জোটের মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে কথা বলতে মনোনয়নপ্রত্যাশী পারভেজ উদ্দিন সান্টুর মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।



মন্তব্য