kalerkantho


রাউজানে চোরের উত্পাত

৩ মাসে পল্লীবিদ্যুতের ৮ ট্রান্সফরমার চুরি

জাহেদুল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম)   

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



উপজেলার হলদিয়া, ডাবুয়া, পাহাড়তলী, কদলপুর ও বাগোয়ান ইউনিয়নের বাসিন্দারা চোরের উত্পাতে অতিষ্ঠ। এসব এলাকায় প্রায় প্রতিরাতে ঘটছে চুরির ঘটনা। গত তিন মাসে পাহাড়তলী, কদলপুর ও বাগোয়ানে ৮টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারসহ একাধিক বাড়িতে চুরি হয়েছে। ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় বিদ্যুৎ গ্রাহকরা আর্থিক ক্ষতিসহ নানা ভোগান্তির শিকার হন।

চট্টগ্রাম পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ নোয়াপাড়া জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাসে এ জোনাল অফিসের অধীন এলাকায় আটটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এর মধ্যে ৬টি ৫ কেভিএ এবং ২টি ১০ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার। ৭ জুলাই পাহাড়তলী বদুপাড়া ১টি ও মহামুনি আর্য্য সত্য প্রজ্ঞা বিমুক্তি বিহারে ১টি, ২৭ জুলাই বাগোয়ানের গঙ্গা মন্দিরে ১টি, ২১ আগস্ট কোয়েপাড়া চিত্র মাস্টারের বাড়িতে ১টি ও পশ্চিম বেতাগীতে ১টি, ৮ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী শেখপাড়া ৪ নম্বর রোডে ১টি, ১২ সেপ্টেম্বর কদলপুরের ইসলামিয়া নতুনপাড়ায় ১টি, ২৩ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলীর নবনির্মিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ১টি এবং সর্বশেষ ২৫ জুলাই কদলপুর খামার বাড়ি হতে ১টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়।

পল্লীবিদ্যুৎ পাহাড়তলী অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. নাছির উদ্দিন চৌধুরী জানান, ৫ কেভিএ ও ১০ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারের কয়েলে যথাক্রমে ৩০ কেজি ও ৬০ কেজি তামা রয়েছে। এ সব তামার জন্য চোরচক্র রাতের আঁধারে ট্রান্সফরমার চুরি করে। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে ট্রান্সফরমারে নজরদারি করার জন্য তিনি গ্রাহকদের প্রতি অনুরোধ জানান।

পল্লীবিদ্যুৎ নোয়াপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আব্দুল হালিম বলেন, ‘গত কয়েকমাস ধরে চুরি বেড়ে গেছে। আমরা প্রতিটি ট্রান্সফরমার চুরির বিপরীতে রাউজান থানায় অভিযোগ করেছি। চুরি রোধে সংশ্লিষ্ট তিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দিয়েছি। সচেতনতামূলক মাইকিং করেছি।’ তিনি জানান, কোনো স্থান হতে ট্রান্সফরমার চুরি বা নষ্ট হলে সেই ট্রান্সফরমার আওতাধীন সংযোগপ্রাপ্ত গ্রাহকদের ১ম বার অর্ধমূল্য এবং পরবর্তী বার হতে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করতে হয়। গ্রাহকরা নগদে পরিশোধ করতে না পারলে তা পরবর্তীতে বিলের সাথে সংযুক্ত করা হয়। একটি ৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের মূল্য ৩৫ হাজার, ১০ কেভিএর মূল্য ৫৩ হাজার টাকা।

এদিকে ৭ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলীর ঊনসত্তরপাড়া গ্রামে চোর সন্দেহে দুজন গণপিটুনিতে মারা গেলেও বন্ধ হয়নি গৃহস্থ বাড়িতে চোরের উত্পাত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ঘটনার একদিন পর রাতে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন কদলপুরের মলাহপাড়ার আবু শাহ (র.) বাড়ির মাহবুব আলম ও আহম্মদ খাঁর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ১২ সেপ্টেম্বর উনসত্তরপাড়ার গ্রামের সন্দ্বীপ পাড়ায় মো. নাছেরের ঘর এবং পাহাড়তলী চৌমুহনী সংলগ্ন মো. জাফর চৌধুরীর বাড়িতে চুরি সংঘটিত হয়। এর আগের দিন দুপুরে ঊনসত্তরপাড়া বলের বাড়ির ঝর্না মহাজনের বাড়িতে চুরি হয়। ২১ সেপ্টেম্বর রাতে কদলপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কবিরাজ নাজির আহমদের বাড়ির মাওলানা মুছা, নুরছড়া বেগম, ২২ সেপ্টেম্বর একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জাহাঙ্গীর ড্রাইভারের বাড়িতে চুরি হয়।

কদলপুরের মাওলানা মুছা বলেন, ‘আমার ঘরে ঢুকে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে চোরের দল ২ ভরি স্বর্ণ, নগদ ৫৫ হাজার টাকা ও মোবাইল নিয়ে যায়।’

এ ছাড়া উপজেলার হলদিয়া, ডাবুয়া এবং পৌরসভার বেশ কিছু এলাকায় হরহামেশা চুরির ঘটনা ঘটছে বলে স্ব স্ব এলাকার লোকজন জানিয়েছেন।

কদলপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল করিম বলেন, ‘কয়েকটি চুরির ঘটনার খবর শুনেছি। আমরা চুরি রোধে এলাকায় সচেতনতামূলক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভার আয়োজন করছি। পাহারারও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

পাহাড়তলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন বলেন, ‘চুরিসহ নানা অপরাধ রোধে পাহাড়তলী চৌমুহনী, ঊনসত্তরপাড়া গৌরীশংকর হাট, চুয়েট এলাকা ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরার আওতায় এনেছি। কিছু এলাকায় পাহারারও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ যারা ইয়াবাসহ নানা নেশাদ্রব্যের ব্যবসা ও সেবনে জড়িয়ে পড়েছে তারাই এসব চুরির সাথে জড়িত বলে মনে করেন তিনি। ট্রান্সফরমার চোর আর গৃহস্থালির বাড়ির চোর এক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ বলেন, ‘কোথাও চুরি হয়েছে এমন অভিযোগ আমাদের কাছে কেউ করেনি। তবে পুলিশ রাতে নিয়মিত ওই সব এলাকায় টহল দেয়।’ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ট্রান্সফরমার চুরি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তাঁরা আমাদের কোনো অভিযোগ দেননি। ট্রান্সফরমারগুলো পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব তাঁদের। তাঁদের নিজস্ব নাইট ডিউটির লোক আছে। তারা গাড়ির বিল ওঠায়।’ এ সময় তিনি কোথায় কোথায় ট্রান্সফরমার রয়েছে, তার তালিকা পুলিশকে দেওয়া হয়েছে কিনা তা জানতে চান।

 



মন্তব্য