kalerkantho


পূজামণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

দ্বিতীয় রাজধানী ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার বাকি আর মাত্র কদিন। দুর্গাপূজা আগামী ১৫ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে। ১৯ অক্টোবর দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসব। পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বিস্তারিত নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো খবরে :

রাঙ্গুনিয়ায় ১৫৩ মণ্ডপ : উপজেলায় ১৫৩ পূজামণ্ডপে চলছে প্রতিমায় তুলির শেষ আঁচড়ের কাজ। প্রতিমাশিল্পীদের দম ফেলার ফুরসত নেই যেন। পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক নির্বানীতোষ সাহা ভাস্কর জানান, এবার উপজেলার ১৫৩ পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।’

পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙ্গুনিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক দিলীপ দাশ বলেন, ‘দুর্গোৎসব ঘিরে পূজা পরিষদ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন মন্দিরে গরিব ও দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হবে।’

তিনি স্ব স্ব পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানান। 

থানার ওসি ইমতিয়াজ মো. আহসানুল কাদের ভূঁঞা বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়নের পাশাপাশি বিশেষ নজরদারি করা হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘দুর্গোৎসবকে সর্বজনীন উৎসবে পরিণত করতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। সনাতন সমপ্রদায়ের লোকজন নির্বিঘ্নে যাতে পূজা উদযাপন করতে পারেন উপজেলা প্রশাসন সেদিকে সজাগ থাকবে।’

রাউজানে ২২৯ মণ্ডপ : এবার উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডে ২২৯ পূজামণ্ডপে সর্বজনীন দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। পূজার্থী ও প্রতিমাশিল্পীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন রং তুলিতে প্রতিমার অঙ্গসাজে ও মণ্ডপের রূপসজ্জায়। কোনো কোনো মণ্ডপে চলছে দর্শনীয়ভাবে প্রতিমা স্থাপনের কাজ। এদিকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনে উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসেন রেজার সভাপতিত্বে রাউজান উপজেলা পরিষদ হলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বলা হয়, দুর্গোৎসবে ১ হাজার ৩৭৪ জন আনসার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলায় ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ পূজামণ্ডপ রয়েছে ৫২টি। ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পূজামণ্ডপ রয়েছে ১২৫টি। পূজা চলাকালে রাউজানের উত্তর ও দক্ষিণে দুটি মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসেন রেজা বলেন ‘পূজামণ্ডপে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে হবে।’ পূজা চলাকালে ফটকা আতশবাজি ও রং ছিটানো থেকে বিরত থাকা এবং রাত ১২টার পর মাইক বাজানো বন্ধ রাখার জন্য সকলকে আহ্বান জানান তিনি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ বলেন, ‘পূজা চলাকালে পুলিশের ১৫টি মোবাইল টিম পুরো রাউজানে টহল দেবে।’

এদিকে বৃহস্পতিবার উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা ও সমাবেশ রাসবিহারী ধামে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী পুরুষকে দেওয়া হয় নতুন বস্ত্র। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি।

দক্ষিণ রাউজান পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আজ শুক্রবার বিকেল তিনটায় দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে নোয়াপাড়া শেখ কামাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে। সম্মেলনে পূজার্থীদের মাঝে কাপড়সহ উপহারসামগ্রী, প্রসাদ বিতরণ করা হবে।

চকরিয়া-পেকুয়ায় ৫০ মণ্ডপ : কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষপ্রস্তুতি চলছে। চকরিয়া উপজেলার ৪৪টি মণ্ডপে এবং পেকুয়ায় ৬টি মণ্ডপে হবে প্রতিমা পূজা।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব হবে অন্য বছরের চাইতে বেশি উৎসবমুখর। এ জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কেউ উৎসবের আমেজ ভণ্ডুল করার চেষ্টা করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাত্ক্ষণিক সাজা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব-উল করিম বলেন, ‘উপজেলার ৬টি মণ্ডপে প্রতিমা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ সব মণ্ডপে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’

চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। এ কারণে সবকিছুই মাথায় রেখে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মণ্ডপগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রাখার পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি র্যাবের ভ্রাম্যমাণ টহলদলও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।’

চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ ও সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ জানান, দেশের বিশেষ পরিস্থিতিতে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই সবকটি মণ্ডপকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অনুরোধ করা হয়েছে।’



মন্তব্য