kalerkantho


চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

অজানা-অচেনা রোগীর জরুরি সেবায় বেসরকারি উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নাম-ঠিকানাবিহীন অজানা-অচেনা রোগীর চিকিৎসাসেবায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে বেসরকারি উদ্যোগে একটি সেবা সার্ভিস চালু হয়েছে। গতকাল সোমবার হাসপাতালের ২৮ নম্বর নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে জরুরি এ সেবা সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

জানা যায়, নতুন এই সেবার মাধ্যমে এখন থেকে ওই ওয়ার্ডে অজানা রোগীকে ওষুধপত্র দেওয়া হবে। এ রকম রোগী ভর্তি হলে হাসপাতালে যেসব ওযুধপত্রাদি সরবরাহ নেই, বেসরকারি উদ্যোগে সে ওষুধপত্র প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ পাবেন এসব রোগী। প্রাথমিকভাবে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চালু হলেও আগামী মাসে ২৬ নম্বর অর্থোপেডিক ওয়ার্ডেও একই সার্ভিস চালু হবে। এরপর ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে চালু হবে ব্যতিক্রমী এই সেবা সার্ভিস।

গতকাল দুপুরে নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে এই সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহম্মেদ, সহকারী পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বী, নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. নোমান খালিদ চৌধুরী প্রমুখ।

এর কার্যক্রমের উদ্যোক্তা ফেনীর ছাগলনাইয়ার সাইফুল ইসলাম নেছার।

গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে বিভিন্ন ওয়ার্ডে অজানা রোগীদের চিকিৎসাসেবায় ওষুধপত্র দিয়ে তাদের পাশে রয়েছি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করেছি। আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি এই সেবা সার্ভিস চালু হয়েছে। এখানে কোনো রোগীকে আমরা অর্থ দিয়ে সরাসরি সহায়তা করছি না। যেসব ওষুধপত্র হাসপাতালে নেই। জরুরিভিত্তিতে লাগছে অজানা রোগীদের আমরা ওই ওষুধপত্র দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘চলতি বছর হাসপাতালে এই পর্ষন্ত ৩৫ জন রোগী পেয়েছি অজানা। এরমধ্যে ওষুধপত্র প্রদানের পাশাপাশি ৯ জন রোগীকে সিটি স্ক্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০১৭ সালে ৫৭ জন এবং ২০১৬ সালে ৯৩ জন অজানা রোগী আমি পেয়েছিলাম।’

কালের কণ্ঠের প্রশ্নের জবাবে নেছার বলেন, ‘বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এই কার্যক্রমে এগিয়ে এসেছে। তারা ওষুধপত্র কিনে দিচ্ছে। ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে একটি আলমারিতে ওষুধ রয়েছে। চিকিৎসকদের কাছে চাবি রয়েছে। অজানা-অচেনা রোগীদের চিকিৎসাসেবায় এসব ওষুধ দেওয়া হবে।’



মন্তব্য