kalerkantho

আলাদা ঘটনায় ৩ জনের অপমৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



চট্টগ্রাম নগর ও খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় আলাদা ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার তিনজনের অপমৃত্যু হয়েছে। নগরের ডবলমুরিং এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে একজন এবং আগ্রাবাদ এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুত্স্পৃষ্টে অন্যজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাঈনী নদীতে গোসল করতে গিয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

ভবন থেকে পড়ে এবং বিদ্যুত্স্পৃষ্টে দুজনের মৃত্যু গতকাল মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার মগপুকুর পশ্চিমপাড় এবং আগ্রাবাদ এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুজন হলেন ডবলমুরিং থানার মগপুকুর পশ্চিমপাড় এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে খোরশেদ আলম (৫০) এবং কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা এলাকার আবদুস সোবহানের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪০)।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘মগপুকুর পশ্চিমপাড় এলাকায় খোরশেদ আলম তাঁর নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিকদের কাজ দেখানোর সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় চমেক হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’

তিনি আরো জানান, আগ্রাবাদের ভ্যানগার্ড গার্মেন্টসে এসি মেরামতকাজ করার সময় বিদ্যুত্স্পৃষ্টে আহত হন আনোয়ার হোসেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় চমেক হাসপাতালে আনা আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মাঈনী নদীতে গোসল করতে গিয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু দীঘিনালায় মাঈনী নদীতে গোসল করতে গিয়ে স্কুলছাত্রের করুণ মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বন্ধুদের সাথে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয় সে। ৬ ঘণ্টা পর রাঙামাটি থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল এসে তার লাশ উদ্ধার করে। নিহত ছাত্র আবদুল হালিম (১৩) দীঘিনালা উপজেলার মধ্যবেতছড়ি গ্রামের মো. জবেদ আলীর ছেলে। সে অনাথ আশ্রম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে হালিম মধ্যবোয়ালখালী এলাকায় প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল। প্রাইভেট শেষে বন্ধুদের সাথে মধ্যবোয়ালখালী এলাকায় মাঈনী নদীতে গোসল করতে যায়। এক পর্যায়ে বন্ধুরা তাঁকে খোঁজে না পেয়ে বাড়িতে খবর দেয়। স্থানীয়রা জাল নিয়ে নদীতে নেমে অনেক চেষ্টা করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। সকাল থেকেই নদীর দুই তীরে হাজারো মানুষ অপেক্ষা করতে থাকে লাশ উদ্ধারের আশায়; কিছুতেই কাজ হয়নি। পরে প্রশাসন বিষয়টি জানার পর রাঙামাটি থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে ঘটনার ৬ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের বাবা জবেদ আলী বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো প্রাইভেট পড়তে গিয়ে ছেলে আর ফিরে এল না। নদীতে গোসলের লোভে সে চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেল।’



মন্তব্য