kalerkantho

হাঁটাসেতু থাকলেও ব্যবহার নেই

ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার

চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের ভাটিয়ারী বাজারে হাঁটাসেতু স্থাপন করা হলেও বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ও পথচারীরা ব্যবহার করে না। ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে প্রতিমুহূর্তে মৃত্যুঝুঁকি জেনেও হাঁটাসেতু (ফুট ওভারব্রিজ) ব্যবহার করছে না অন্তত ৩০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধলাখ শিক্ষার্থী এবং হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। ফুট ওভারব্রিজ কাছে থাকলেও দুয়েক মিনিট সময় বাঁচাতে তারা ব্রিজের উপর দিয়ে না গিয়ে চলন্ত বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের সামনেই দৌঁড়ে পার হয় সড়ক। ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা। অন্যদিকে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এখানকার আট ফুটওভার ব্রিজ অনেকটা অব্যবহূত পড়ে আছে।

ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড এলাকা হয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করে। কয়েক বছর আগে মহাসড়ক চার লেন হওয়ার পর চলাচলকারী গাড়ির গতিও বেড়ে গেছে। এতে দূরের যাত্রীরা উপকৃত হলেও ঝুঁকি বেড়েছে উপজেলার মহাসড়ক সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসার অর্ধলাখ শিক্ষার্থী এবং সড়কের আশপাশে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষের। কারণ, সড়কে এত বেশি যানবাহন চলাচল করে যা এড়িয়ে পারাপার খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ সীতাকুণ্ডের সাত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুট ওভারব্রিজ স্থাপন করেছে। পর্যায়ক্রমে আরো স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এ ছাড়া একটি বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান একটি বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে নিজ অর্থায়নে একটি ওভারব্রিজ নির্মাণ করে দিলে উপজেলায় বর্তমানে ফুট ওভারব্রিজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮টিতে।

সরেজমিন দেখা যায়, যেখানে ফুট ওভারব্রিজ স্থাপন করা হয়েছে সেখানেই রয়েছে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ফলে এগুলোতেই নিয়মিত সাধারণ মানুষ পারাপার হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা পুরোপুরি ভিন্ন। সামনে ফুট ওভারব্রিজ থাকলেও হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ এসব ব্যবহার করছে। বেশির ভাগ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার করছে।

ফুট ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপারের বিষয়ে জানতে চাইলে ভাটিয়ারী বিজয় স্মরণী ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ অজুহাত দেখিয়ে বলেন, ‘লক্ষ করে দেখুন ফুট ওভারব্রিজটি আমাদের কলেজ গেট থেকে কয়েক শ হাত উত্তরে। সেখানে পৌঁছানোর আগেই আমরা কলেজের সামনে দিয়ে মহাসড়ক পার হচ্ছি!’

এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাঁকে সতর্ক করার চেষ্টা করা হলে ফয়সাল বলেন, ‘আমি গাড়ি দেখে শুনেই পার হই, কিছু হবে না!’

ভাটিয়ারী হাজি টিএসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী শান্তা ও ৭ম শ্রেণির ছাত্রী প্রিয়ার বক্তব্যও প্রায় একই। তারা বলে, স্কুল থেকে কিছুটা হেঁটে গিয়ে আবার ব্রিজে উঠতে মন চায় না। তাই এভাবে পার হচ্ছি। এভাবে পার হওয়ায় ঝুঁকি আছে স্বীকার করলেও তারা দেখেশুনে পার হয় বলে জানায়।

জানতে চাইলে ভাটিয়ারী হাজি টিএসসি উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমরাও লক্ষ করেছি। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে আলাপ আলোচনাও হয়েছে। অতি শিগগিরই সেখানে একজন লোক নিয়োগ করব। তিনি শিক্ষার্থীদের স্কুল শুরুর আগে ও ছুটি শেষে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করাবেন।’

সীতাকুণ্ড হাইওয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মতে, সীতাকুণ্ডে অধিকাংশ দুর্ঘটনাই ঘটছে ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপারের সময়। গত এক বছরে এখানে গাড়ি চাপা পড়ে মারা গেছে অন্তত ৮০ জন। এর মধ্যে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ রয়েছে।

বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি মো. আহসান হাবীব বলেন, ‘এখানে অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনায় গাড়ি চাপা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারের বিষয় নিয়ে আমি ভাটিয়ারী স্কুল ও মাদামবিবিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে মিটিংও করেছি। এরপর দুয়েকদিন ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার হয় পরে আবার আগের অবস্থা।’

তাঁর মতে, সড়কের ডিভাইডার যদি বন্ধ করা যায় তাহলে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য হবে সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মামুন বলেন, ‘সীতাকুণ্ডের বেশির ভাগ স্কুল-কলেজ মহাসড়কের পাশে। উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২৯টি। এর মধ্যে ২০টির মতো মহাসড়কের পাশে। এ ছাড়া আরো অনেক কলেজ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা আছে মহাসড়কের পাশে। এ কারণে অনেক স্কুলের সামনে ফুট ওভারব্রিজ করা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষার্থী ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হচ্ছে। এ ব্যাপারে সবাই সচেতন না হলে দুর্ঘটনা ও অকাল মৃত্যু ঠেকানো যাবে না।’



মন্তব্য