kalerkantho

ম্রোদের ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



১৯৮০ সালে একটি বিশেষায়িত প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু করার মধ্য দিয়ে অক্ষরজ্ঞানহীন ম্রো জনজাতির মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত তিন দশকের পথ পরিক্রমায় প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডি ছাড়িয়ে ম্রো তরুণরা এখন জ্ঞান অন্বেষণে ছড়িয়ে পড়েছেন বিশ্বময়। অগ্রজদের অনুসরণ করে এগোতে এগোতে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ম্রো জনগোষ্ঠীর ৬৭ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণের সংখ্যা ৩০, ডিগ্রি ও অনার্সে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ জন এবং মাস্টার্স পাস করেছেন ৬ ম্রো শিক্ষার্থী।

গতকাল বুধবার বান্দরবান শহরের অরুণ সারকী টাউন হলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ম্রো স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএসএ) আয়োজিত শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। আরো জানানো হয়, চলতি শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অপেক্ষায় আছে কমপক্ষে ৩০ জন।

সংগঠনের সভাপতি রেংচাং ম্রোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। ম্রো তরুণ-তরুণীদের এই এগিয়ে যাওয়ার তথ্যে মুগ্ধ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে, তাদের ভর্তি এবং আনুষঙ্গিক সকল ফি আমি নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দেব।’

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শফিউল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য সিং ইয়ং ম্রো, থানচি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খামলাই ম্রো, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো এবং বেশ কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথি পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আশির দশকে ম্রোদের জন্যে শিক্ষার সীমিত সুযোগ তৈরি হলেও ১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তিচুক্তির মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পর দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী ম্রো জনজাতির জন্যে শিক্ষার দ্বার অবারিত হয়।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দুর্গম এলাকাগুলোতে সম্পূর্ণ আবাসিক বিদ্যালয় চালুর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকারের চলতি মেয়াদে শুধু বান্দরবানেই ৬টি আবাসিক বিদ্যালয় চালু করা হয়েছে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ম্রোদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে সদর উপজেলার সুয়ালকে স্থাপিত ম্রো আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিগগিরই কলেজ শাখা চালু করা হবে।’

চলতি অর্থ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যুতায়ন খাতে ৫৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে এই অঞ্চলে যে উন্নয়ন হয়েছে, গত এক শতাব্দীতে তার অর্ধেকও হয়নি।’

পরে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে এসএসসি, এইচএসসি, ডিগ্রি, অনার্স এবং মাস্টার্স উত্তীর্ণ মোট ১১৪৬ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

 



মন্তব্য