kalerkantho


পরীক্ষা করতে সময় লাগবে ৩০ সেকেন্ড!

মাদক-বিস্ফোরক ধরতে কাস্টমসে যোগ হচ্ছে ‘স্পেকটোমিটার’

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মাদক-বিস্ফোরক ধরতে কাস্টমসে যোগ হচ্ছে ‘স্পেকটোমিটার’

চট্টগ্রাম বন্দরে মাদক ও বিস্ফোরক পদার্থ শনাক্ত করতে কাস্টমসে যোগ হচ্ছে বিশেষ যন্ত্র ‘স্পেকটোমিটার’। আমদানি হয়ে আসা মাদক ও বিস্ফোরকসহ বৈধ-অবৈধ ১৩ হাজার রাসায়নিক পদার্থ অত্যন্ত দ্রুত পরীক্ষা করে ফলাফল জানিয়ে দেবে এই বিশেষ যন্ত্র। আর পরীক্ষা করতে সময় লাগবে মাত্র ৩০ সেকেন্ড!

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, ঢাকা কাস্টমস ও বেনাপোল স্থলবন্দরে এই তিনটি যন্ত্র বিনা মূল্যে দিয়েছে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন। কাস্টমস আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এই যন্ত্র দেওয়া হয়েছে। যা দেশে প্রথম। এগুলো প্রতিটির বাজারমূল্য ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কমিশনার ড. এ কে এম নুরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত ৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান আনুষ্ঠানিকভাবে এই যন্ত্র হস্তান্তর করেছেন। অফিশিয়ালি যন্ত্রটি হাতে পেতে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগবে। এরপর আমরা সহকারী কমিশনার বা উপ কমিশনার পদ মর্যাদার কর্মকর্তাদের এটি পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেব। স্পর্শকাতর বিধায় শুধু এই কর্মকর্তাদের দিয়েই বিশেষ যন্ত্রটি চালানো হবে। চালু করতে হয়তো সেপ্টেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত সময় লাগবে।’

তিনি মনে করেন, ‘বিশেষ এই যন্ত্র যুক্ত হলে চট্টগ্রাম কাস্টমস প্রযুক্তিগত দিক থেকে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে। বন্দর দিয়ে আসা যেকোনো মাদকদ্রব্য শনাক্তেও যন্ত্রটি খুবই কার্যকরী। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে রেখে এই যন্ত্র আপাতত ব্যবহার করা হবে।’

জানা গেছে, ‘স্পেকটোমিটার’ এর বাণিজ্যিক নাম ‘প্রেগেন্সি রেসকিউ হ্যান্ডহেল্ড রমন স্পেকটোমিটার’। বিশ্বের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা বাহিনীর কর্মকর্তারা দ্রুত ফলাফল পেতে এই যন্ত্র ব্যবহার করেন। এ ছাড়া রাসায়নিক পদার্থ শনাক্তকারী বিশ্বের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এটি ব্যবহার করে। বিশ্বের অনেক দেশের বিমানবন্দর, স্থলবন্দরে ও সমুদ্রবন্দরে এটি বেশ জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে এটি প্রথম। ভারতীয় বিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর রমন যন্ত্রটি আবিষ্কার করেন। কিন্তু এটি তৈরি হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং বিপণনও হচ্ছে সেখান থেকে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ধরুন কোনো ব্যক্তি বা আমদানিকারক কিছু কেমিক্যাল বা রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে আসল। আমাদের সন্দেহ হল সেটি হেরোইন। তখন সঙ্গে সঙ্গেই আমরা এই স্পেকটোমিটার মেশিন দিয়ে টেস্ট করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রেজাল্ট পাব। তত্ক্ষণাৎ ফল পাওয়ায় আমাকে টেস্ট করার জন্য নমুনা নিয়ে পৃথকভাবে ল্যাবে পাঠানো এবং রেজাল্ট না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কিছুই করতে হবে না। এতে ভোগান্তি যেমন কমবে, সময়ের প্রচুর সাশ্রয় হবে, কাস্টমসের দ্রুত সেবা দেওয়াও সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই মেশিন পরিচালনা খুব কঠিন কিছু নয়। তবে পরিচালনায় সতর্ক থাকতে হবে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তাঁরা সেটি পরিচালনা করবেন।’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরে ২০১৫ সালের জুন মাসে ভোজ্যতেলের ঘোষণায় মাদকদ্রব্য ‘কোকেন’ নিয়ে আসেন এক আমদানিকারক। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া থেকে সূর্যমুখী তেল আমদানির নাম দিয়ে কন্টেইনারে ১০৭ ড্রাম তরল নিয়ে আসেন তিনি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেই চালান আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা দল। কিন্তু কোকেনের উপস্থিতি নিশ্চিত হতে একমাস সময় লেগেছিল। পরে একটি ড্রামেই কোকেন উপস্থিতি ধরা পড়ে। অথচ ‘স্পেকটোমিটার’ মেশিন দিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই তা শনাক্ত করা সম্ভব।

এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কোনো বিস্ফোরক পদার্থ আসছে কিনা নিশ্চিত হতে নৌবাহিনীর অধীন ডেঞ্জারাস কার্গো বিভাগে নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষা করেই নিশ্চিত হতে হয়। এক্ষেত্রে ‘স্পেকটোমিটার’ মেশিন কাজে লাগানো গেলে সুফল মিলবে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‘আধুনিক এ যন্ত্র মাদকদ্রব্য ও বিস্ফোরকসহ রাসায়নিক পদার্থ শনাক্তে বেশ কার্যকরী। কিন্তু এটি পরিচালনার মানুষগুলো যদি দক্ষ চৌকস না হয় তাহলে শতভাগ সুফল মিলবে না।’

 

 



মন্তব্য