kalerkantho


বাইরে যাওয়ার ১২ ঘণ্টা পর বাড়ির অদূরে লাশ

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বাইরে যাওয়ার ১২ ঘণ্টা পর বাড়ির অদূরে লাশ

রাউজানের পশ্চিম গুজরার বাসিন্দা বাবুল বড়ুয়ার লাশ গতকাল উদ্ধার করে পুলিশ

ঘর থেকে বের হওয়ার ১২ ঘন্টা পর মঙ্গলবার সকালে বাড়ির অদূরে মৃতদেহ পাওয়া গেছে এক ব্যক্তির। তাঁর নাম বাবুল বড়ুয়া। তিনি রাউজান উপজেলার ১১ নম্বর পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের উত্তর গুজরা গ্রামের কালী কুমার বড়ুয়ার বাড়ির মৃত সুধীর রঞ্জন বড়ুয়া মেজ ছেলে। তাঁর বাবা পুলিশ বাহিনীর সদস্য ছিলেন।

নিহতের স্ত্রী সুমি বড়ুয়া বলেন, ‘আমার স্বামী কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। প্রায়ই তিনি সন্ধ্যায় বের হলে গভীর রাতে ঘরে ফিরতেন। সোমবার রাতে রান্না করার জন্য ঘরে চাল ও ঘরের অন্যান্য বাজার ছিল না। বিষয়টি তাঁকে জানালে তিনি আমাকে বলেন কারো কাছ থেকে চাল নিয়ে রান্না করতে। রাতে ফিরতে তাঁর দেরি হবে। পাশের পিকেসেন হাট (মগদাই বাজার) থেকে ঘরের বাজার করে আনবেন বলেও জানান।’

সোমবার রাতে ঘরে না ফিরলেও স্বাভাবিক বিষয় ধরে নিয়ে আর কোনো খোঁজ নেয়নি বাবুলের পরিবার। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে বাড়ি থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে ৪-৫ গজ দূরে বাসু দত্তের বাড়ির মনি দত্তের ঘরের উত্তর পাশে বাবুলের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন ওই বাড়ির স্বপন নামে এক ব্যক্তি। এরপর তিনি বাবুলের স্ত্রীকে বিষয়টি জানান। তাঁর মৃতদেহের মাথার পাশে ঘরের বাজারের লাল রংয়ের একটি থলে পড়ে আছে। তাঁর গলায় দাগ ছিল। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের এএসপি জাহাঙ্গীর আলম।

লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করতে আসা পূর্ব গুজরা পুলিশ ফাঁড়ি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মহসিন রেজা বলেন, ‘নিহত বাবুলের গলায় দাগ পাওয়া গেছে। শরীরের আর অন্য কোথাও কোনো দাগ পাওয়া যায়নি। তাঁর পরনে ছিল লুঙ্গি ও শার্ট। বাজারের একটি থলে লাশের পাশে পাওয়া গেছে। দুপুরে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের এএসপি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কেউ হয়তো বাবুলকে হত্যা করে ওই জায়গায় ফেলে যেতে পারে। ঘটনাটি তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।’

হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তেমন কিছু বলতে পারছেন না নিহতের মা শিবু রানী বড়ুয়া ও স্ত্রী সুমি বড়ুয়া। তাঁরা জানান, নিহতরা তিন ভাই। বড় ভাই মারা গেছেন। বেঁচেছিলেন বাবুল বড়ুয়া ও ছোট ছেলে মিলন বড়ুয়া। বাবুল নিজের এবং বর্গা জমি নিয়ে কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। মিলন বড়ুয়া জিপ (চাঁদের গাড়ি) চালান। দুই ভাইয়ের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। সম্পত্তি নিয়েও অন্য কারো সঙ্গে বিবাদও নেই। কারা কি জন্য বাবুলকে হত্যা করলো তা ধারণা করতে পারছেন না তাঁরা।

এদিকে নিহতের বড় মেয়ে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া পায়েল বড়ুয়া বলেছে, ‘চাচা মিলন বড়ুয়া মাদকাসক্ত। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে বাবার ঝগড়া লেগেই থাকতো। একবার চাচার বিরুদ্ধে মাদকের ব্যাপারে পুলিশের কাছে অভিযোগও দিয়েছিলেন বাবা।’

তবে মিলন বড়ুয়া বলেন, ‘বড় ভাই বাবুলের সঙ্গে আমার খুব মিল ছিল। কোনো বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আমার অমত বা ঝগড়া ছিল না।’

পূর্ব গুজরা পুলিশ ফাঁড়ি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মহসিন রেজা বলেন, ‘মিলন বড়ুয়া মাদকসেবন করে। সে কয়েকবার জেল খেটেছে। তবে এ হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, নাকি অন্যকোনো কারণে কেউ তাকে হত্যা করেছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে।’

তাঁর ধারণা, বাবুল বড়ুয়াকে গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। অবশ্য এমনও হতে পারে, হয়তো বাবুল বড়ুয়া আত্মহত্যা করেছে, তা দেখে ভয়ে কেউ ওই স্থানে লাশ রেখে গেছে। এ কারণে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত সঠিক কারণ কিছু বলা যাচ্ছে না।’

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।

 



মন্তব্য