kalerkantho


খাগড়াছড়ির স্বনির্ভর বাজারে ৬ খুন

তদন্তের সময় বেড়েছে আরো ১৫ দিন

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



তদন্তের সময় বেড়েছে আরো ১৫ দিন

খাগড়াছড়ির স্বনির্ভর বাজারে গত ১৮ আগস্ট সন্ত্রাসীদের গুলিতে ছয়জন নিহতের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের করা তদন্ত কমিটির মেয়াদ আরো ১৫ কার্যদিবস বাড়ানো হয়েছে। এর আগে ঘটনার দিনই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। 

তদন্ত কমিটির প্রধান খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু ইউসুফ জানিয়েছেন, তদন্তের কাজ এগিয়ে চলছে। তবে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তাই তদন্ত কমিটির মেয়াদ আরো ৩০ কার্যদিবস বৃদ্ধির আবেদন করার প্রেক্ষিতে ১৫ কার্যদিবস বাড়িয়েছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। গত ৩০ আগস্ট থেকে কমিটির বর্ধিত সময়সীমা গণনা করা হবে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু ইউসুফ জানান, ইতোপূর্বে ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকার জনগণের বক্তব্য ও মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। স্বনির্ভর বাজারের ব্যবসায়ী, প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার শিকার চিকিৎসাধীন একজনের সাথেও কথা বলেছেন তদন্ত দলের সদস্যরা। সেদিন খাগড়াছড়ি হাসপাতালে কর্তব্য পালনকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ করেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

তদন্ত কমিটির প্রধান আবু ইউসুফ বলেন, ‘তদন্তের কাজ আরো বাকি রয়েছে। স্বনির্ভর বাজারে এখন পর্যন্ত ৩/৪ বার গেলেও সেখানে আরো যেতে হবে। ভিকটিম পরিবারগুলোর সদস্যদের সাথে আরো কথা বলতে হবে। আরো তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজন হলে সেদিনকার সিসি ক্যামেরার ক্লিপসমূহও দেখা হবে।’

ঘটনার ব্যাপারে নির্ভয়ে কথা না বললে প্রকৃত ঘটনা ও জড়িতদের খুঁজে বের করা সহজ হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার, খাগড়াছড়ি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ আগস্ট সকালে শহরতলির স্বনির্ভর বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ৬ জন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আরো ৩ জন আহত হন। পরে একই দিন দুপুরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার সময় জেলা সদরের পেরাছড়ায় আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে গিয়ে আরো একজন নিহত হন।

নিহতের মধ্যে ৩ জন ইউপিডিএফ সমর্থিত দুটি পাহাড়ি সংগঠনের নেতা এবং বাকিরা সাধারণ পথচারী ছিলেন। এর মধ্যে জিতায়ন চাকমা নামে একজন স্বাস্থ্য সহকারীও ছিলেন।



মন্তব্য