kalerkantho


প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে মাদক কারবার ছাড়ার ঘোষণা

‘আমি আর মাদক বিক্রি করব না, আমায় ক্ষমা করুন’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে মাদক কারবার ছাড়ার ঘোষণা

সদরঘাট থানা পুলিশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাদক কারবার ছাড়ার ঘোষণা দেন পুলিশের তালিকাভুক্ত কারবারি এসকান্দর আলম। ছবি : কালের কণ্ঠ

সদরঘাট থানার তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি এসকান্দর আলম ওরফে মোস্তাফিজুর রহমান (৪৪) পর পর পাঁচ দফা কারাগারে যান মাদক পাচার মামলায়। পাঁচ মামলার আসামি হওয়ার কারণে পুলিশ তাঁকে তালিকাভুক্ত মাদক কারবরি হিসেবে চিহ্নিত করে।

তালিকাভুক্ত এই মাদক কারবরি সম্প্রতি কারাগার থেকে বের হয়ে দেখেন দেশব্যাপী চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান। ধরা পড়ছেন অনেকে। কেউ কেউ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারাও যাচ্ছেন। এমতাবস্থায় তিনি মাদক কারবার ছেড়ে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন।

কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ নেজাম উদ্দিনের কাছে গিয়ে নিজের মনোবাসনার কথা জানান।

কিন্তু তিনি তাঁর কথায় ‘মাদক কারবারি’র তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে রাজি হননি। অফিসার ইনচার্জ নেজাম উদ্দিন শর্ত দেন, মুখে বললেই আত্মসমর্পণ হবে না। এলাকাবাসীর সামনে প্রকাশ্যে মাদক কারবার ছাড়ার ঘোষণা দিতে হবে। এতে রাজি হন এসকান্দর।

এ প্রসঙ্গে সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নেজাম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, তালিকাভুক্ত এসকান্দর তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে মাদক কারবার করেন। সদরঘাট থানা এলাকায়  মোট ১৯জন তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি আছেন। তাঁদের বেশির ভাগই কারাগারে। এছাড়া শীর্ষ মাদক কারবারি ইউসুফ ভারতে পালিয়ে আছে।

এসকান্দরের আত্মসমর্পণের বিষয়ে ওসি বলেন, ‘আত্মসমর্পণে রাজি হওয়ায় সদরঘাট থানার বিট পুলিশ এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে কয়েক শ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।’

তিনি জানান, অনুষ্ঠানে এসকান্দরের সঙ্গে কাউন্সিলর মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর জহির আহমদ চৌধুরী, বিট পুলিশের সভাপতি আদনান ইসলামসহ থানার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত হন।’

ওই সভায় প্রকাশ্যে মাইকে বক্তব্য দিয়ে এসকান্দর বলেন, ‘আমি মাদক কারবার করেছি। এখন থেকে আর মাদক কারবার করবো না। মাদক কারবার করে আমি এলাকাবাসীর ক্ষতি করেছি। আপনারা আমাকে ক্ষমা করুন।’

এসকান্দর ঘোষণা দিয়ে মাদক কারবার ছেড়ে দেওয়ার পর তাত্ক্ষণিকভাবে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী ২০ হাজার, থানার অফিসার ইনচার্জ নেজাম উদ্দিন পাঁচ হাজার, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহির আহমদ চৌধুরী পাঁচ হাজার টাকাসহ মোট ৩০ হাজার টাকা উপহার দেন।

এসকান্দর পরবর্তীতে আবারও মাদক কারবার শুরু করলে অবস্থা কী হবে জানতে চাইলে ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘সেই সুযোগ আর নেই। বিট পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশ এবং থানা পুলিশ নিয়মিত এসকান্দরের কর্মকাণ্ড নজরদারি করবে। এছাড়া নিয়মিতভাবে থানায় এসে হাজিরা দিতে হবে তাঁকে। যদি মাদকের সংশ্লিষ্টতা আবার পাওয়া যায়, তাহলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৫ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

নগরে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৫ হাজার ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গতকাল রবিবার সকালে অভিযান দুটি চলে।

গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (বন্দর) আসিফ মহিউদ্দীন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানার ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জহুরুল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নোয়াখালী সদর থানার বিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া তাঁর সঙ্গে মো. মিলন (৩৫) নামে আরো একজন ছিলেন। তিনি পলাতক। এ ছাড়া জহুরুল ইসলামের নিশান মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে। ওই গাড়িতে এবং আসামির শরীরে ইয়াবাগুলো লুকানো অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ জানান, ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাত হাজার ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন মো. আসলাম, তাঁর ভাই মো. দ্বীন ইসলাম ও তাঁদের সহযোগী নজরুল ইসলাম। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

 

 



মন্তব্য