kalerkantho


যেকোনো সময় সরকারের পতন হবে : নোমান

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



যেকোনো সময় সরকারের পতন হবে : নোমান

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চট্টগ্রাম নগরের নূর আহমদ সড়কে গতকাল সমাবেশ করে বিএনপি। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশে বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেন, ‘যেকোনো সময় জনগণ রাস্তায় নেমে সরকারের পতন ঘটাবে। এ অবস্থায় বিএনপির জন্য আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।’

গতকাল শনিবার বিকেলে নগরের নুর আহমদ সড়কে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নোমান আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপি আগামী নির্বাচনে যাবে না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জনগণ যায়নি। খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলে জনগণ এবারও ভোট প্রত্যাখ্যান করবে। আর ইভিএম পদ্ধতি হলো নির্বাচন নিয়ে সরকারের নতুন ষড়যন্ত্র।’

তিনি পুলিশ প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, ‘সমাবেশের জন্য আমরা লালদিঘি মাঠ চেয়েছিলাম। পুলিশ কমিশনার দেননি। কাজির দেউড়িতে করতে চেয়েছিলাম, সেই অনুমতিও দেননি। এভাবে রাস্তায় সমাবেশ করলে জনগণ নেতাদের বক্তব্য শুনতে পায় না।’ রাস্তা সমাবেশের জায়গা নয় উল্লেখ করে নোমান বলেন, ‘আগামীতে আমরা মাঠেই সমাবেশ করব। মাঠে সমাবেশ করার শক্তি বিএনপির আছে।’

নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। আরো বক্তব্য দেন বিএনপির অর্থ সম্পাদক এস এম ফজলুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর প্রমুখ।

মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, ‘এই সরকারের পতনের লক্ষে চট্টগ্রাম থেকেই গণঅভ্যুত্থানের সূচনা করব।’

ডা. শাহাদাত বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম থেকে গণমিছিল ও স্বেচ্ছায় কারাবরণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী লংমার্চ হবে।’

নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ‘ইনু-মেননের ফর্মুলা ধরে সরকার বিএনপিকে ভাঙার অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু একজনও বিএনপি ছেড়ে যাননি। গলাধাক্কা দিলেও একজন কর্মী বিএনপি ছেড়ে যাবে না।’ এদিকে তিনি বক্তব্য দেওয়ার সময় মঞ্চের সামনে স্থানীয় দুই নেতার মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

অপরদিকে সমাবেশ চলাকালে এর চারপাশে পুলিশ মোতায়েন ছিল। সমাবেশের বাইরে পুলিশ কাউকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেয়নি। নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসাইন বলেন, ‘সব মিলিয়ে ৩০০ পুলিশ মোতায়েন ছিল।’

ফেনী থেকে প্রতিনিধি জানান : জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন মিস্টার, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক এম এ খালেক, মনোয়ার হোসেন দুলাল, শহর বিএনপির সভাপতি আলাল উদ্দিন আলাল, জেলা কৃষক দল সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও জেলা মহিলা দল সভাপতি জুলেখা আক্তার ডেইজিসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দাগনভূঞায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মঞ্চ পুড়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। শুক্রবার ভোরে আলাইয়ারপুর বদরেন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির সভামঞ্চ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।

দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেন অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসীরা রাতে দুটি মাইক্রোবাস, তিনটি অটোরিকশা এবং আনুমানিক ১৫/১৬টি হোন্ডা নিয়ে বিএনপির ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল ও মঞ্চে আগুন লাগিয়ে চলে যায়। তিনি বলেন, ‘পুলিশের সহযোগিতায় ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন মামুন জানান, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। ক্ষমতাসীন দলের কেউ এ ঘটনার সাথে জড়িত নয়।

নোয়াখালী থেকে প্রতিনিধি জানান : দীর্ঘদিন পর নোয়াখালীতে বিএনপি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বড় ধরনের সভা করেছে। শনিবার বিকেলে জেলা শহর মাইজদীর নোয়াখালী আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভাটি ছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর সবচেয়ে বড় আয়োজন। এটি মিলনায়তনে হলেও জেলা জজ আদালতসহ সামনের সড়কে বিপুলসংখ্যক সমর্থক অবস্থান নেন। এর আগে শহরে শোভাযাত্রা বের করা হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসির সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। আরো বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, সেনবাগ উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম, সোনাইমুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক কামাল, সোনাইমুড়ী পৌরসভার মেয়র মোতাহের হোসেন মানিক, জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজগর আলী দুখু, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান মো. নোমান,শাহনাজ পারভীন প্রমুখ।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, ‘বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে অবৈধ সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে।’

খাগড়াছড়ি থেকে প্রতিনিধি জানান : সরকার বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটকে রেখে বিএনপিকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকার ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া এ দেশে কোনো নীল নকশার নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।’ গতকাল বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের হলরুমে এ আলোচনাসভার আয়োজন করে জেলা বিএনপি। এতে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু, ছাত্রদলের সভাপতি শাহেদ সুমন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক কুহেলী দেওয়ান প্রমুখ। এর আগে মিছিল নিয়ে নেকতাকর্মীরা জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হন। পরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ভাস্কর্যে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন নেতারা।

 



মন্তব্য