kalerkantho


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবিতে সাত দফা

ছাত্রলীগ ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবিতে সাত দফা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের সংখ্যা ও বগি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সমস্যা নিরসন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও প্রগতিশীল ছাত্রজোট।

বুধবার ট্রেনে কাটা পড়ে পা হারানো সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল আলমের ভবিষ্যত নিশ্চয়তাসহ ৭ দফা দাবিতে এসব কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। এতে ছাত্রলীগ কর্মীসহ কয়েক শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ওই কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপুসহ বেশ কজন ছাত্রলীগ নেতা এবং দুর্ঘটনায় পা হারানো রবিউলের সহপাঠীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থার সংকট নিয়ে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু প্রশাসন আমাদের দাবি কখনো কানে নেয়নি। যদি তাঁরা পরিবহন সংকটের বিষয়টি সমাধান করতেন, তাহলে রবিউলের পা হারানোর মতো এমন অবস্থা হত না। ট্রেনে ৪ থেকে ৫টি বগি আছে। সঙ্গে আবার মালবাহী বগিও থাকে। প্রতিদিন ঠাসাঠাসি করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করেন। প্রশাসনের এগুলো চোখে পড়ে না! হলের খাবারেরও ন্যূনতম কোনো মান নেই, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব সমস্যা অবিলম্বে সমাধান করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন করে প্রশাসনের কাছ থেকে দাবি আদায় করা হবে। যৌক্তিক দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব।

বক্তারা আরো বলেন, আমরা চাই রবিউলের যাবতীয় চিকিৎসা খরচ যেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করে এবং ভবিষ্যত নিশ্চয়তার জন্য তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন।

তাঁদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শাটলের বগি বৃদ্ধি ও বগি সংস্কার, রেললাইন সংস্কার, ষোলশহর থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত ডাবল লাইন চালু, প্রত্যেক স্টেশনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার ও জনবল নিয়োগ, শাটলে বহিরাগতদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ, রবিউলের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ও ভবিষ্যত নিশ্চয়তার জন্য চাকরির ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু করা।

এদিকে মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপাচার্যের কার্যালয়ে যান। তবে মিছিলটি আইটি ভবনের সামনে গেলে মিছিলে সামনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করে হট্টগোল বাঁধে। তবে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে এর সুরাহা হয়। পরবর্তীতে ছাত্রলীগের নেতারা উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর কাছে মৌখিকভাবে দাবিগুলো জানান। এ সময় উপাচার্য তাঁদের দাবিগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর স্টেশনে শাটল ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রবিউল আলম। তিনি এখন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।



মন্তব্য