kalerkantho


সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের অভিমত

বন্দরের কারণে বিনিয়োগের উপযুক্ত স্থান চট্টগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের অভিমত

চট্টগ্রাম চেম্বার মিলনায়তনে গতকাল মতবিনিময় সভায় সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য প্রতিনিধি দল। ছবি : বিজ্ঞপ্তি

বন্দরের কারণে চট্টগ্রাম বিনিয়োগের উপযুক্ত স্থান বলে মনে করেন সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশন (এসবিএফ) চেয়ারম্যান টিও সিয়ং সেং। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে দেশের একমাত্র ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার, বন্দর চেয়ারম্যান, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান, অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান, বন্দর ব্যবহারকারী এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় সিঙ্গাপুরের ২৫ সদস্যবিশিষ্ট বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন টিও সিয়ং সেং। তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনে আগামীতে সহযোগিতা প্রদান করবে সিঙ্গাপুর। আর্থিক খাতে দক্ষিণ এশিয়ায় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ব্লু ইকনোমি, জ্বালানি খাত, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সিঙ্গাপুর কাজ করতে বদ্ধপরিকর।’

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম চট্টগ্রামকে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলা, চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা বন্দরের উন্নয়ন এবং মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞ সহায়তা ও বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন। তিনি চিকিৎসাপ্রার্থী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের জন্য চট্টগ্রামে সিঙ্গাপুরের ভিসা সেন্টার ও বিভিন্ন হাসপাতালের বুথ স্থাপনের অনুরোধ জানান। যোগাযোগের সুবিধার্থে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিঙ্গাপুর বিমান চলাচল চালু করা, সরকারি পর্যায়ে জনশক্তি রপ্তানিতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন এবং এক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন চেম্বার সভাপতি।

বাংলাদেশ ইকনোমিক জোনস্ অথরিটির (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির অব্যাহত অগ্রযাত্রায় চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।’ তিনি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের ব্যবসাবান্ধব আইন পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ প্রদানসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা, বাংলাদেশ তথা চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের চলমান এবং ভবিষ্যত বিভিন্ন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আজিজ বন্দরের বিদ্যমান সক্ষমতা এবং ভবিষ্যত সম্প্রসারণ বিষয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, চেম্বার সহসভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, তুর্কির অনারারি কনসাল সালাহ্উদ্দীন কাসেম খান, ইতালির অনারারি কনস্যুলার মীর্জা সালমান ইস্পাহানি ও উইম্যান চেম্বারের সহসভাপতি মুনাল মাহবুব বক্তব্য দেন।

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম চেম্বার, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও পিএইচপি, কেএসআরএম, বিএসআরএম প্রতিনিধিসহ অবকাঠামো, পোর্ট অ্যান্ড লজিস্টিকস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিপিং, আইটি, রিয়েল এস্টেট, আর্থিক খাত, কনসালটেন্সি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন খাতের সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 



মন্তব্য