kalerkantho


বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক প্রস্তুতি

ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন কাল

দ্বিতীয় রাজধানী ডেস্ক   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



‘ভিটামিন এ খাওয়ান, শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমান’ স্লোগানে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০১৮ (১ম রাউন্ড) আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুকে ১টি নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে ১টি লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। ক্যাপসুল খাওয়ানোর আগে শিশুকে খালি পেটে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো খবরে :

চট্টগ্রাম : সাড়ে ১২ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে নগরে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ এবং জেলায় সাড়ে সাত লক্ষাধিক শিশুকে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় আয়োজিত আলাদা সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। 

জেলার ১৪ উপজেলায় ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭০৪ শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।  বৃহস্পতিবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক ওরিয়েন্টেশন সভায় এ তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা.মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, ‘শনিবার জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনে চট্টগ্রাম জেলার ১৪ উপজেলায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৮৩ হাজার ৭৮২ শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৯২২ শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ১৪ উপজেলার ২০০ ইউনিয়নের ৬০০ ওয়ার্ডে কার্যক্রম তদারকি করবেন ৬০০ জন। এছাড়া ক্যাম্পেইনে স্বাস্থ্য সহকারী থাকবেন ৬১০ জন। মোট টিকাকেন্দ্রের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৯। প্রতিটি কেন্দ্রে ২ জন করে ১০ হাজার ৯৮ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবেন। চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলায় শনিবার সকালে ক্যাম্পেইন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. হুমায়ুন কবীর, মেডিক্যাল অফিসার ওয়াজেদ চৌধুরী প্রমুখ।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জেনারেল হাসপাতাল সম্মেলন কক্ষে করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। গতকাল ওই সংবাদ সম্মেলনে করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, ‘নগরের ৪১ ওয়ার্ডে স্থায়ী-অস্থায়ী এক হাজার ২৮৮ কেন্দ্রে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সকালে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।’

লিখিত বক্তব্যে ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী জানান, এবার চট্টগ্রাম নগরে ছয় থেকে ১১ মাস বয়সী প্রায় ৮০ হাজার শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল (এক লাখ ইউনিট) এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় চার লাখ ৫০ হাজার শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল (দুই লাখ ইউনিট) খাওয়ানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.মোহাম্মদ আলী, মেনন হাসপাতালের ইনচার্জ ডা. আশীষ মুখার্জি প্রমুখ।

কক্সবাজার : জেলায় ৪ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৫ শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন এ ক্যাপসুল। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৫২ হাজার ৩৩০ এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী রয়েছে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৩৩৫ শিশু। আট উপজেলা ছাড়াও পৃথকভাবে কক্সবাজার পৌরসভায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বৃহস্পতিবার ইপিআই সেন্টারে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য টিকাদান কেন্দ্রের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৫১। এর মধ্যে স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র ৯, অস্থায়ী ১ হাজার ৮৪০, ভ্রাম্যমাণ ২৭ ও ৭৫টি অতিরিক্ত টিকাদান কেন্দ্র। এ ছাড়া টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য নিয়োজিত থাকবেন স্বাস্থ্য সহকারী ২৩৫ জন, পরিবার কল্যাণ সহকারী ২১১ জন, স্বেচ্ছাসেবক ৫ হাজার ৪০৭ জন। পুরো কর্মসূচি তত্ত্বাবধানের জন্য ২১৯ জন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োজিত থাকবেন।

গতকাল ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন নিয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. রনজন বড়ুয়া রাজন, ইউসিফের কর্মকর্তা তাহমিনা ফেরদৌসি, জিয়াউল হক, জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সিরাজুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

নোয়াখালী : জেলার ৯ উপজেলায় ৫ লাখ ২২ হাজার ৯১৬ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২ হাজার ৩৮১ কেন্দ্রে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

বৃহস্পতিবার জেলা সিভিল সার্জন অফিসে প্রেস বিফিংয়ে জেলা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার ডা. দিপেন চন্দ্র মজুমদার সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন। এর আগে জেলা সিভিল সার্জন ডা. বিধান চন্দ্র সেনগুপ্ত বক্তব্য দেন। কর্মসূচি সফল করতে কয়েকটি এনজিও এবং সরকারি ৭২৬ মাঠকর্মী ও ৪ হাজার ৭৬২ স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।

বান্দরবান : ৫ বছরের কম বয়সী ৭৭ হাজার শিশুকে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। বৃহস্পতিবার বান্দরবান সিভিল সার্জনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. অং সুই প্রু মারমা এ তথ্য জানান। কর্মশালায় তিনি জানান, ৯৬ কেন্দ্রের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীসহ ১ হাজার জন স্বেচ্ছাসেবী এ কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

সিভিল সার্জন জানান, গত বছর বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয় ৬ দশমিক ৫ ভাগ। এবার ৯৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রত্যাশা করছেন তিনি।

এদিকে ৬ মাস থেকে ১১ মাস পর্যন্ত ৯৬৫০ শিশুকে নীল রঙের একটি করে এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস পর্যন্ত বয়সী ৬৭৩১০ শিশুকে ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ১৩ প্রতিবন্ধী শিশুও রয়েছে।

 

 



মন্তব্য