kalerkantho


চট্টগ্রাম বন্দরে ৫০ সেকেন্ডের টর্নেডো, গাড়ি কন্টেইনার ক্ষতিগ্রস্ত

‘বন্দর কর্তৃপক্ষের অদক্ষতার কারণে এই ক্ষতি হয়েছে। গাড়িগুলো খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়েছিল’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



চট্টগ্রাম বন্দরে ৫০ সেকেন্ডের টর্নেডো, গাড়ি কন্টেইনার ক্ষতিগ্রস্ত

চট্টগ্রাম বন্দরে গতকাল টর্নেডোর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত কন্টেইনার। ছবি : সংগৃহীত

টর্নেডোর আঘাতে চট্টগ্রাম বন্দর জেটি থেকে রশি ছিঁড়ে কর্ণফুলী নদীর মাঝে চলে গেছে দুটি বিদেশি জাহাজ। এগুলো কন্টেইনার পণ্যভর্তি ছিল। বন্দরের ইয়ার্ডে অনেক পণ্যভর্তি ও খালি কন্টেইনারও ছিটকে পড়েছে। এতে কন্টেইনারসহ পণ্যের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া গাড়ি রাখার শেডে অন্তত ৩০ গাড়ির ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির মোট পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে নয়টায় ৫০ সেকেন্ডের টর্নেডোতে চট্টগ্রাম বন্দরে এ ঘটনা ঘটে। বন্দরের বাইরে বা চট্টগ্রামের কোথাও এই ধরনের টর্নেডো আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে টার্মিনাল ম্যানেজার গোলাম মো. সারোয়ারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘‘সকালে টর্নেডোর আঘাতে জেটি থেকে রশি ছিঁড়ে দুটি বিদেশি জাহাজ ‘ওইএল স্ট্রেইট’ ও ‘এক্সপ্রেস মহানন্দা’ কর্ণফুলী নদীর মাঝপথে চলে যায়। পরে টাগবোট দিয়ে টেনে জাহাজ দুটিকে জেটিতে আনা হয়।’’ তিনি আরো বলেন, ‘ইয়ার্ডের মধ্যেও সারিবদ্ধ প্রচুর কন্টেইনার ছিটকে পড়ে গেছে। পরে অবশ্য আমরা টিম নিয়ে সেগুলো সারিবদ্ধ করে রাখি। কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেটি এখনো বলা যাবে না।’

বিদেশি ওইএল স্ট্রেইট জাহাজের শিপিং এজেন্ট জিবিক্সের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাহাজের কোনো ক্ষতি হয়নি। নিরাপদেই জেটিতে ফিরেছে। মজার বিষয় হচ্ছে জাহাজটি জেটিতে ছিল ১৩ নম্বর জেটিতে, আজ সকাল নয়টায় স্থানান্তর করে নয় নম্বর জেটিতে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকৃতিই সেই জাহাজকে নয় নম্বর জেটি নিয়ে যায়।’

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, টর্নেডোর আঘাতে ‘এক্সপ্রেস মহানন্দা’ জাহাজের সামনের দিকে বেশ ক্ষতি হয়েছে তবে বন্দর জেটির কোনো ক্ষতি হয়নি।

জানা গেছে, টর্নেডোর আঘাতে চট্টগ্রাম বন্দরের চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি)-এ ১০/১২টি খালি কন্টেইনার পড়ে গেছে। সেগুলো বেশ কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আর পণ্যভর্তি কন্টেইনার পড়ে গেছে বন্দরের আইসিডি ইয়ার্ডে এবং জেটির পাশে ১৩ নম্বর শেডে। সব মিলিয়ে ৪০টির মতো কন্টেইনার ছিটকে পড়েছে, অনেকগুলো মুচড়ে গেছে। সেখানে পণ্যের কী অবস্থা এখনো জানা যায়নি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বন্দর সম্পাদক লিয়াকত আলী হাওলাদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পণ্যভর্তি কন্টেইনার পড়ে গিয়ে ক্ষতিও হয়েছে কিন্তু পণ্যের ক্ষতি হয়েছে কিনা কন্টেইনার না খোলা পর্যন্ত বলা যাবে না। আমদানিকারকরা ডেলিভারি নেয়ার সময় সিলগালা কন্টেইনার খোলা হবে এরপরই নিশ্চিত হওয়া যাবে ক্ষতির পরিমাণ।’

এর বাইরে বন্দরের ভেতর খোলা আকাশের নিচে গাড়ি রাখার পি ও এফ শেডে ৩০টি গাড়ির ক্ষতি হয়েছে। গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে এবং শেডের টিন উডে এসে পড়ে গাড়ির ক্ষতি হয়েছে।

ম্যাক্সিম কারের কর্ণধার সুজাউদ্দিন মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমিসহ অনেক আমদানিকারকের গাড়ি ক্ষতি হয়েছে। বন্দরের নিজেদের অদক্ষতার কারণে এই ক্ষতি হয়েছে। কারণ জাহাজ থেকে নামার পর গাড়িগুলো সুরক্ষিত ছাউনিযুক্ত নতুন শেডে না রেখে খোলা আকাশের নিচে পুরাতন শেডে রাখা হয়েছে। এর ক্ষতিপূরণ বন্দরের দেওয়া উচিত।’


মন্তব্য