kalerkantho


পতেঙ্গা বেড়িবাঁধের পুরনো ব্লক বোল্ডার হাওয়া

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



হাওয়া হয়ে গেছে পতেঙ্গা (চট্টগ্রাম শহর রক্ষা) বেড়িবাঁধের পুরনো ব্লক, বোল্ডার। নগরের পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা এলাকা পর্যন্ত সাড়ে ১৪ কিলোমিটার লম্বা বেড়িবাঁধের প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকার সিসি ব্লক, বোল্ডার এবং জিওটেক্সটাইলের অধিকাংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠেছে, নির্মাণাধীন আউটার রিং রোড প্রকল্পে বেড়িবাঁধের মাটি, ব্লক ও বোল্ডার ব্যবহার করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়াই এসব ব্লক, বোল্ডার ব্যবহার করায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কাছে ক্ষতিপূরণ ৩৮০ কোটি টাকা দাবি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে সিডিএ এ বিষয়ে এখনো কোনো সাড়া দেয়নি।

এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ছিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বেড়িবাঁধ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পদ। বেড়িবাঁধের মাটি বোল্ডার ও ব্লকগুলো অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে পারবে না। নির্মাণাধীন আউটার রিং রোড প্রকল্প গ্রহণের আগেই এ ব্যাপারে সিডিএ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। কিন্তু এখন আউটার রিং রোডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বেড়িবাঁধের মাটি, ব্লক ও বোল্ডার সরিয়ে অন্যত্র ব্যবহার করছে। এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ৩৮০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে প্রকল্প পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বোল্ডার নং ৬২ এর বেড়িবাঁধের মোট ১৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশে আউটার রিং রোড প্রকল্পের আওতায় রাস্তা নির্মাণ কাজ চলছে। এই বেড়িবাঁধটি চট্টগ্রাম শহর রক্ষা বাঁধ হিসেবে পরিচিত। এই বাঁধের প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশে ব্লক, বোল্ডার এবং মাটি সরিয়ে নিয়েছে আউটার রিং রোডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিন দেখা গেছে, রিং রোড নির্মাণের জন্য নিচু এলাকাগুলোতে বেড়িবাঁধের মাটি, বোল্ডার ও ব্ল্যাক ব্যবহার করে ভরাট করা হয়েছে। এছাড়াও নির্মাণাধীন রিং রোডের উভয় পাশে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্লক ও বোল্ডার। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা বলেন, সিডিএ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির ৫ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘ক্লে সয়েল কালেকশন’ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, বেড়িবাঁধের মাটি ব্যবহার করা হলে পানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে টাকা প্রদান করতে হবে। কিন্তু আউটার রিং রোড প্রকল্পে বেড়িবাঁধের মাটি ব্যবহার করা হলেও এর কোনো ক্ষতিপূরণ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে আউটার রিং রোড প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কাজী হাসান বিন শামসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুরনো বাঁধের চেয়ে বড় (দীর্ঘ, প্রস্থ, উচ্চতায়) বাঁধ আমরা তৈরি করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে হস্তান্তর করব। তারা (পানি উন্নয়ন বোর্ড) কীভাবে আমাদের কাছ থেকে ব্লক, মাটি ব্যবহারের জন্য ক্ষতিপূরণ চাইছে তা আমরা বুঝতে পারছি না। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড যে ব্লক, বোল্ডারের দাবি করছে তা চুক্তি অনুযায়ীই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করার সুযোগ রাখা হয়েছে। পুরনো বাঁধের মাত্র ১৫০০ কিউবিক মিটার ব্ল্যাক নতুন রিং রোডে ব্যবহার করা হয়েছে। এসব চুক্তি অনুযায়ী হয়েছে। এতে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।’



মন্তব্য