kalerkantho

ফেনী ছাত্রদলের নতুন কমিটি শিগগিরই

পদ পেতে নেতাদের দৌড়ঝাঁপ

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



পদ পেতে নেতাদের দৌড়ঝাঁপ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংগঠন পুনর্গঠন শুরু করেছে বিএনপি। সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ঢাকা মহানগরসহ বিএনপির সাংগঠনিক জেলা এবং প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে প্রয়োজনীয় পুনর্গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে দলটির নীতিনির্ধারক ফোরাম।

এরই অংশ হিসেবে ৬ জুন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ২৪টি ইউনিট কমিটি অনুমোদন দেয়। এতে ফেনীর ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। কাঙ্ক্ষিত পদপ্রার্থীরাও বসে নেই। তাঁরা ঢাকায় অবস্থান করে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। যে কোনো সময়ে ফেনী জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, ছাত্রদলের তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটি ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ফেনী জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করে। কমিটিতে সভাপতি পদে নইম উল্যাহ চৌধুরী বরাত, সিনিয়র সহসভাপতি এস এম কায়সার এলিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে সালাহউদ্দিন মামুনের নাম ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটি ঘোষণার পর ‘যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন না করার’ অভিযোগ করেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে সিনিয়র সহসভাপতির পদ থেকে এস এম কায়সার এলিন পদত্যাগ করলে ছাত্রদলে বিরোধ দেখা দেয়। কয়েকদিনের মাথায় ‘তৃণমূল ছাত্রদলে’র ব্যানারে সম্মেলন করে জেলা ছাত্রদলের আরেকটি পাল্টা কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই কমিটিতে মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা সভাপতি ও এস এম কায়সার এলিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ভিপির আশীর্বাদ নিয়ে মেজবাহ-এলিন কমিটি পৃথকভাবে ফেনীর রাজপথে কিছু কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া সদর উপজেলা কমিটিও ঘোষণা করেন তাঁরা।

এদিকে বরাত-মামুন নেতৃত্বাধীন কমিটি কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও প্রায় চার বছর নেতৃত্বে থেকে এ কমিটি শুধু ফেনী সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি, ফেনী পৌরসভা, ফেনী সরকারি কলেজ, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী উপজেলা, সোনাগাজী পৌর ও কলেজ শাখার কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েও বাস্তবায়ন করতে পারেনি বরাত-মামুন কমিটি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার পরও পদ-পদবি না পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে বেশ কয়েকজন নেতা বিদেশে পাড়ি জমান। এছাড়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত হয়ে যান।

এছাড়া বরাত-মামুন কমিটি ঘোষিত সদর উপজেলা কমিটিকে ৩ মাসের মধ্যে সব ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণার নির্দেশ দেওয়া হলেও এঁরা বালিগাঁও, ছনুয়া ও মোটবী ইউনিয়ন কমিটি গঠনে সক্ষম হয়েছে। বাকি ৯ ইউনিয়নে কমিটি করা সম্ভব হয়নি। সদর উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সজিবুল ইসলাম পাটোয়ারী দলীয় কর্মসূচিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে ঢাকায় অবস্থান করায় ফেনী সদরের বাকি ৯ ইউনিয়নে কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি বলে দলের একাধিক সূত্র জানায়।

সমপ্রতি নতুন করে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।

সূত্র জানায়, নতুন কমিটির সভাপতি পদে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকা ও বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে দলীয় হাইকমান্ড সন্তুষ্ট থাকায় জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এস এম সালাহ উদ্দিন মামুন অনেকটা নিশ্চিত বলে জানা গেছে। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, জেলা ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন রিয়াদ, সজিবুল ইসলাম পাটোয়ারী, মিল্লাত চৌধুরী, মোর্শেদ আলম, জুয়েল পাটোয়ারী, তৌহিদুল ইসলাম আকাশ, ফখরউদ্দিন সেন্টু, নজরুল ইসলাম দুলাল ও সাইবার ইউজার দলের মজুমদার রশীদসহ বেশ কয়েকজন প্রার্থী হবেন বলে তাঁদের ঘনিষ্ঠজনরা জানান। তবে বিগত দিনে সরকার বিরোধী কর্মসূচি পালনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা থাকায় মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, জাকির হোসেন রিয়াদ, তৌহিদুল ইসলাম আকাশ ও মিল্লাত চৌধুরীর মধ্য থেকে একজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে বলে একটি সূত্রের দাবি।

অপরদিকে সজিব পাটোয়ারী, তৌহিদুল ইসলাম আকাশ, মোর্শেদ আলম, ফখর উদ্দিন সেন্টুর মধ্য থেকেও যে কেউ সাধারণ সম্পাদক হতে পারেন বলে তাঁদের ঘনিষ্ঠজনরা দাবি করেন।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন মামুন বলেন, ‘আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করুক বা নাই করুক। এরপরেও সবাইকে নিয়ে আগামী দিনে কাজ করে যাব।’ এক্ষেত্রে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দলীয় স্বার্থে সবাইকে এক কাতারে এসে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 



মন্তব্য