kalerkantho


ক্রেতা কম বেচাকেনা কমেছে অর্ধেকের বেশি

বৃষ্টির বাগড়া ঈদ বাজারে

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



প্রচণ্ড বৃষ্টি বাগড়া বসিয়েছে চট্টগ্রামের ঈদ বাজারে। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক ক্রেতা ঘর থেকেই বের হতে পারছেন না। ফলে চট্টগ্রামের মার্কেটগুলোতে গত দুদিন ধরে বেচাকেনা কমেছে অর্ধেকের বেশি।

এ অবস্থায় আজ সোমবারও বৃষ্টির আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে। ফলে ব্যবসায়ীদের কপালে পড়েছে ভাঁজ।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া সহকারী কর্মকর্তা সৈয়দা মিনি পারভীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রবিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় নগরে প্রায় ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সোমবারও ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ধসের আশঙ্কা আছে।’

বৃষ্টির কারণে ঈদের বাজারে যাওয়া সম্ভব হয়নি জানিয়ে বিশিষ্ট চিকিৎসক মোরশেদ আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যস্ততার কারণে আগে ঈদের বাজার করা সম্ভব হয়নি। ভেবেছিলাম শনি অথবা রবিবার সন্তানদের নিয়ে মার্কেটে যাব। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মার্কেটে যেতে পারিনি। এখন বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার অপেক্ষায় আছি। বাচ্চারা তো আর অপেক্ষা করতে চায় না।’

বৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হতে না পারায় ঘরের কিছু প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কেনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন গৃহবধূ নাজিয়া সোলতানা।

তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির সময় কী আর ঘর থেকে বের হতে পারছি! অবস্থা এরকম থাকলে তো ঈদের পরই আসবাবপত্র কিনতে হবে।’

বৃষ্টির কারণে ক্রেতারা মার্কেটমুখী হতে পারছেন না উল্লেখ করে চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সের থার্ড আই নামক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এস এ সাহেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৫ রোজার পর স্বাভাবিকভাবেই বিক্রি বাড়ে। এবার সেভাবে বাড়েনি। বৃষ্টি বাধার কারণে ক্রেতারা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার ভয়েও ক্রেতারা বের হন না।’

বৃষ্টির কারণে বেচাকেনা অর্ধেকের চেয়েও বেশি কমেছে উল্লেখ করে টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহমদ হোছাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৃষ্টি হলে ক্রেতারা ঘর থেকেই বের হতে পারেন না। এ কারণে গত দুই দিন ধরে টেরিবাজারে বিক্রি হয়েছে অর্ধেকের কম। আবার সোমবারও বৃষ্টি হওয়া মানে বিক্রি আরও কমে যাওয়া। ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে বৃষ্টি এভাবে বাধা হবে বুঝতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘হাল্কা বৃষ্টি হলে সমস্যা ছিল না। এখন টানা বর্ষণ হচ্ছে। তাই বেশির ভাগ ক্রেতা ঘর থেকেই বের হচ্ছেন না। ফলে বিক্রেতারা দুশ্চিন্তা পড়েছেন।’

 



মন্তব্য