kalerkantho


বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

রাউজানে ৪ মাংস বিক্রেতার জেল

জিইসি মোড়ে ক্যান্ডির ‘চোর-পুলিশ’ খেলা

দ্বিতীয় রাজধানী ডেস্ক   

২৫ মে, ২০১৮ ০০:০০



রাউজানে ৪ মাংস বিক্রেতার জেল

গতকাল রাউজানের পথেরহাটে মাংসের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম নগর, রাউজান ও নোয়াখালীতে বৃহস্পতিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছেন। এ সময় রাউজানে অতিরিক্ত দামে গরুর মাংস বিক্রি এবং ওজনে কারচুপির অভিযোগে ৪ বিক্রেতাকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। বিস্তারিত নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো খবরে :

চট্টগ্রাম : নগরের জিইসি মোড়ে ভেজাল তেল ও নোংরা পরিবেশে ইফতারসামগ্রী বিক্রি করায় ক্যান্ডি নামে একটি খাবারের দোকানকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। একই সঙ্গে ভেজাল তেল ও নোংরা পরিবেশে তৈরি ইফতারি বিক্রি বন্ধের আদেশ দেন আদালত।

কিন্তু জরিমানা আদায় করে ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্যান্ডি থেকে বের হওয়ার ১০ মিনিটের মাথায় আবার ইফতারি বিক্রি শুরু করে তারা। বিষয়টি জানতে পেরে দ্বিতীয়বার ক্যান্ডিতে যান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এবার আদালত আদেশ দেন দোকান বন্ধ এবং নোংরা পরিবেশে তৈরি ইফতারি নষ্ট করার।

এতেও কাজ হয়নি! ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে দোকানের একটি দরজা (শাটার) বন্ধ করে কিছুক্ষণ বিক্রি বন্ধ রাখা হলেও ম্যাজিস্ট্রেট ওই স্থান ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে আবার শুরু হয়ে যায় বিক্রি।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে এভাবেই ‘চোর-পুলিশ’ খেলে নগরের জিইসি মোড়ের খাবারের দোকান ক্যান্ডির মালিক-কর্মচারী।

অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম নেতৃত্ব দেন। এতে সহযোগিতা করেন নগর পুলিশ, বিএসটিআই, ক্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

এদিকে একই সময়ে জিইসি মোড়ের মোহাম্মদিয়া হোটেলে অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। হোটেলটিতে তখন অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে ইফতার তৈরি ও বিক্রি হচ্ছিল। এছাড়া হোটেলের রান্নাঘরে পচা রূপচাঁদা মাছ ও ডিম পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে হোটেলটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভেজাল খাদ্যবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে নগরের জিইসি মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ক্যান্ডিকে ১৫ হাজার টাকা ও মোহাম্মদিয়া হোটেলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয় বিবেচনা করে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল।

রাউজান : অতিরিক্ত দামে মাংস বিক্রি এবং ওজনে কারচুপির অভিযোগে চার মাংস বিক্রেতাকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার উপজেলার নোয়াপাড়া পথেরহাটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম হোসেন রেজার নেতৃত্বে ওই অভিযানে এই দণ্ড দেওয়া হয়।

জানা যায়, উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের খানপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল বারেকের ছেলে মনছুরকে (৩৮) ১৫ দিন, একই এলাকার মৃত ওমর আলীর ছেলে আলী আকবরকে (৪০) ১৫ দিন, মৃত তনু মিয়ার ছেলে ইমান আলীকে (২৮) ১৫ দিন এবং মৃত আব্দুল রাজ্জাকের ছেলে আবুল বাশারকে (৩৬) এক মাসের দণ্ডাদেশ দেন আদালত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম হোসেন রেজা বলেন, ‘রাউজানবাসীর খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনস্বার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

নোয়াখালী : জেলা শহর মাইজদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে তিন দোকানকে জরিমানা করেছেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম সরদার এ অভিযান পরিচালনা করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের প্রধান সড়কের বিভিন্ন খাবার হোটেল, ওষুধ ও মুদির দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

এ সময় রাজমহল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে নিরাপদ খাদ্য আইনে ১০ হাজার টাকা, মায়া হোটেলকে ৫ হাজার টাকা ও আমানিয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট থেকে ভোক্তা অধিকার আইনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নোয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম সরদার জানান, অভিযানে হোটেলগুলোতে অনিরাপদভাবে খাদ্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। তাই নিরাপদ খাদ্য আইনে তিন প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয়।



মন্তব্য