kalerkantho


ফেনীতে গৃহবধূ হত্যা

ভয়ে মুুখ খুলছে না নিহতের পরিবার

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



দাগনভূঞায় গৃহবধূ শারমিনকে গুলি করে হত্যা ঘটনায় খুনির ভয়ে মুখ খুলছে না নিহতের পরিবার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই নিহতের মা আলেয়া বেগম একই বাড়ির জাহাঙ্গীরকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

বুধবার সকালে পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়নপুর ভূঁইয়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে কাতর নিহতের মা, বাবা, ভাই, বোন ও প্রতিবেশীরা। তাঁরা পাশের ঘরের জাহাঙ্গীর পিস্তল দিয়ে শারমিনকে গুলি করে খুন করে সপরিবারে পালিয়েছে বলে জানালেও হত্যাকারীর ভয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি নন। এ সময় জাহাঙ্গীরের নির্যাতনের শিকার পাশের বাড়ির বিবি মরিয়ম বলেন, ‘সে একটা শয়তান। প্রায় ৩ মাস আগে সে আমাকে ও আমার মেয়ে কামরুন নাহারকে নির্যাতন করেছে। এজন্য আমি ফেনী মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেছি।’

স্থানীয় জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড গত ৫০ বছরেও আমাদের এলাকায় ঘটেনি। চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও নারীলিপ্সু জাহাঙ্গীর কী কারণে ওই নারীকে খুন করল তা বের করার পাশাপাশি অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।’

এলাকার লোকজন জানান, জাহাঙ্গীর দাগনভূঞার ঢেওয়ালী বাজারে ডেকোরেটরের ব্যবসার পাশাপাশি সার্ভেয়ার আমিন সহকারীর কাজ করে। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বার পদে পরাজিত জাহাঙ্গীর প্রসঙ্গে স্থানীয় মেম্বার সফিউল্লাহ স্বপন বলেন, ‘জাহাঙ্গীর ইতোপূর্বে ভূঞা দিঘির পাশে ও মৌলবীবাজারের উত্তরপাশে নারীসহ ধরা পড়েছে। দ্বিতীয় ঘটনায় জাহাঙ্গীরকে বিচারে দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

নিহত শারমিনরা চার বোন ও দুই ভাই। বাবা শামসুল হকসহ একভাই ঢাকায় থাকে। মা ও অপর ভাই বোনেরা গ্রামে থাকত। পার্শ্ববর্তী সেনবাগ উপজেলার ছমিরমুন্সী ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের ওমর ফারুকের সঙ্গে আট মাস আগে শারমিনের বিয়ে হয়। ওমর রাজধানীর একটি মোটরগ্যারেজে কাজ করেন। ২২ দিন আগে বাবার বাড়িতে আসেন শারমিন। তিনি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘নিহতের বিয়ে হয়েছে আট মাস আগে। ২২ দিন আগে তিনি বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের জোর চেষ্টা চলছে।’

আগে বিয়ের প্রস্তাব, পরে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা! : বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গৃহবধূ শারমিন আক্তারকে (২২) হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। মঙ্গলবার দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে খুন হন তিনি।

একাধিক সূত্রের দাবি, নয়নপুর গ্রামের আদু ভূঞা বাড়ির শামছুল হকের মেয়ে শারমিন আক্তারকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় একই বাড়ির আবদুল মজিদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম। বিয়েতে রাজী না হওয়ায় ২০১২ সালে শারমিনকে ধর্ষণ করতে চাইলে তাঁর শোর-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে জাহাঙ্গীর পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গ্রাম্য সালিয়ে তার শাস্তি হয়। নিহতের বোন ফরিদা খাতুন জানান, ঘটনার দিন জাহাঙ্গীর তাদের ঘরে ঢোকে শারমিনের সাথে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি করে পিস্তল দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়।

‘গুলির পর শারমিনের পাশেই খুনি’ : ‘শারমিন ও জাহাঙ্গীর টিভি দেখছিলেন। আমি পাশের কক্ষে নামাজ পড়তে গেলাম। হঠাৎ গুলির শব্দ। ছুটে এসে দেখি বোনের লাশ। পাশেই বসা জাহাঙ্গীর। এক হাতে শারমিনের থুতনি অপর হাতে পিস্তল। ফরিদাকে দেখেই বলল ইন্নালিল্লাহ’। এভাবেই বড় বোন শারমিনের খুনের ঘটনার বর্ণনা দেন ছোট বোন ফরিদা। ফরিদা চিৎকার করে উঠলে ঘর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যায় জাহাঙ্গীর। ততক্ষণে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দাগনভূঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামে প্রতিবেশীর গুলিতে গৃহবধূ শারমিন খুন হন। ঘটনার পর ওই অস্ত্রধারী পলাতক রয়েছে।


মন্তব্য