kalerkantho


সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাকে ত্রাণ ও দুর্যোগ সচিব

দায়িত্ব অন্যের কাঁধে চাপাও কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি    

২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



দায়িত্ব অন্যের কাঁধে চাপাও কেন?

পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে জনসচেতনতা বাড়াতে সীতাকুণ্ডে শোভাযাত্রা। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম নগরসহ পাঁচ জেলায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে বসবাসরতদের আগামী ১৫ মের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। রবিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ‘পাহাড়ধস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আগাম সতর্কতামূলক কার্যক্রম’ সংক্রান্ত কর্মশালায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ইচ্ছে করলে আমরা অনেক কিছু করতে পারি না, পারব না। যদি কাজ করার মতো সাহস থাকে আমরা অনেক কিছু করতে পারি। সে জায়গায় আমরা যাব কিনা সেটাই কথা।’

কর্মশালায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী শামসুদ্দোহা জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৬টি পাহাড় আছে। কিন্তু এই তথ্য সংশোধন করে মন্ত্রী মায়া বলেন, ‘চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের হিসাবে ১৮টি পাহাড়ে ৬৮৪টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করে। এসব পাহাড় ব্যক্তি মালিকানা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের।’

বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছর চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করেছিলাম এসব পাহাড়ে হাজার হাজার মানুষ বাস করে। কিন্তু সেখানে ৬৮৪টি পরিবার বাস করে। যাদের উচ্ছেদ করা ছয় ঘন্টার কাজ।’ এ সময় তিনি পাহাড় থেকে অবৈধ বসত উচ্ছেদ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল। আরো বক্তব্য দেন  অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শঙ্কর রঞ্জন সাহা, চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মাসুদ উল হাসান, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত সচিব মো. মহসীন।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, ‘চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ে বহু মানুষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করে। আগামী ১৫ মের মধ্যে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করে পাহাড়ে অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদের নির্দেশনা দেন সচিব।

কর্মশালার এক পর্যায়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা করার কথা উল্লেখ করলে এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ত্রাণ ও দুর্যোগ সচিব। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব অন্যের কাঁধে চাপাও কেন? এটা উচ্ছেদ করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। জেলা প্রশাসন সহায়তা করবে।’

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পাহাড় ও ভূমিধস মোকাবিলায় জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের ৩৫টি উপজেলায় র্যালি, কর্মশালা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সভা করবে। এরই অংশ হিসেবে

রবিবার চট্টগ্রামে শোভাযাত্রা, কর্মশালা ও জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় মন্ত্রী ১০৯০-তে মোবাইল থেকে ফোন করে প্রতিদিনের আবহাওয়া বার্তা নেওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানান।

সীতাকুণ্ড : পাহাড়ধস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কতামূলক কার্যক্রম সম্পর্কিত আলোচনাসভা রবিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে এক শোভাযাত্রা উপজেলা সদর প্রদক্ষিণ করে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া। বক্তব্য দেন সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. মোজাম্মেল হক, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র চক্রবর্তী ও ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম। সভায় অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কামরুজ্জামান, ইউপি চেয়ারম্যান সাদাকাত উল্ল্যা মিয়াজী, উপজেলা প্রকল্প উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর, নির্বাচন কর্মকর্তা পরান্টু চাকমা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শাহ্ আলম প্রমুখ।

বক্তারা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জানমাল রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। এতে যেকোনো বিপর্যয়ে ক্ষতি তুলনামূলক কম হবে বলে তাঁদের অভিমত।


মন্তব্য