kalerkantho

গুইমারায় সমাবেশ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

নারী দিবসে বর্ণাঢ্য আয়োজন

দ্বিতীয় রাজধানী ডেস্ক   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



নারী দিবসে বর্ণাঢ্য আয়োজন

গতকাল আন্তর্জাতিক নারী দিবসে খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির শোভাযাত্রা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘সময় এখন নারীর : উন্নয়নে তারা, বদলে যাচ্ছে গ্রাম শহরে কর্ম জীবনধারা’ স্লোগানে গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন স্থানে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। কর্মসূচিতে ছিল শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা ও নারী উন্নয়ন মেলা।

এদিকে খাগড়াছড়ির গুইমারায় হিল উইমেন্স ফেডারেশন নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে সড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। বিস্তারিত নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো খবরে :

খাগড়াছড়ি : জাতীয় মহিলা সংস্থা ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর শোভাযাত্রা বের করে। পরে নারী উন্নয়ন মেলা উদ্বোধন করা হয়।

এছাড়া পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠনগুলো শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা করে। শহরে বর্ণিল শোভাযাত্রা করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) নারী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি। শহরের টাউন হল থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহর ঘুরে খাগড়াপুরে গিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যুথিকা চাকমার সভাপতিত্বে নারী সমাবেশে বক্তব্য দেন জনসংহতি সমিতির নেতা সুধাকর ত্রিপুরা, বিমল কান্তি চাকমা, দুর্গারানী চাকমা প্রমুখ।

খাগড়াছড়িতে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সমাবেশ করেছে হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিউএফ)। সকালে জেলা সদরের স্বনির্ভরে ইউপিডিএফ কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এটি উপজেলা পরিষদ এলাকা ঘুরে স্বনির্ভরে এসে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন এন্টি চাকমা, বরুণ চাকমা, অমল ত্রিপুরা ও রেশমি মারমা।

গুইমারায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া : ইউপিডিএফ সমর্থিত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের উদ্যোগে গুইমারায় ‘মা বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন ও শিশুর যৌন হয়রানি প্রতিরোধে এগিয়ে এসো, রুখে দাঁড়াও’ স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১১টায় গুইমারা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি  উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্কুলের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় সড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পুলিশের বাধাদানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এতে পুলিশ কনস্টেবল মো. রাসেল আহত হন বলে জানা গেছে। হিল উইমেন্স ফেডারেশনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সভানেত্রী নিরুপা চাকমা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে পুলিশ তাঁদের নিরীহ কর্মীদের ওপর চড়াও হয়। পুলিশের হামলায় সংগঠনের জেলা কমিটির সভানেত্রী দ্বিতীয়া চাকমাসহ ৪ জন আহত হয়েছেন।

প্রায় ঘণ্টাখানেক উত্তপ্ত থাকার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ৮ নারী প্রকৌশলীকে সম্মাননা : বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং পেশার মতো দেশের ভারী শিল্পখ্যাত জাহাজ নির্মাণ শিল্পেও আত্মনিয়োগ করেছেন বাঙালি

নারীরা।

এতদিন দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে পুরুষ নৌ-প্রকৌশলীরা কাজ করলেও পরিবর্তন এসেছে। এখন যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন নারী প্রকৌশলীরা।

এমনই আট নারী প্রকৌশলীকে গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সম্মাননা দিয়েছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লি.। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি থেকে ব্যাচেলর অব মেরিটাইম সায়েন্স (ইঞ্জিনিয়ারিং), দুজন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টেকনোলোজি থেকে বিএসসি ইন নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং একজন চিটাগাং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন।

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এই আটজন ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন নারী আমাদের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে ইন্টার্নশিপ করছেন। জাহাজ নির্মাণ শিল্পের মতো ভারী এবং উচ্চপ্রযুক্তি সম্পন্ন পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ দেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিক।’

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ইসি চেয়ারম্যান সোহেল হাসান বলেন, ‘বিশ্বায়নের যুগে নারীদের অগ্রযাত্রাকে কেউ রুখতে পারবে না। দেশের নারীরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং পেশায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ দিচ্ছেন।’ এ শিল্পে আরো বেশি নারী প্রকৌশলীদের এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

নৌ-প্রকৌশলী ফারজানা আক্তার ফাইজা বলেন, ‘জাহাজ নির্মাণ নিঃসন্দেহে একটি জটিল শিল্প। এখানে কাজ করতে পারা যেকোনো নারীর জন্য অনেক গর্বের। নারী হিসেবে আমার জন্য এই কাজ একটা চ্যালেঞ্জ। আমি মনে করি দেশের অভ্যন্তরীণ অন্যান্য কর্মক্ষেত্রগুলোতে নারীরা যতটা সুরক্ষিত এখানেও ঠিক ততটাই সুরক্ষিত।’

কক্সবাজারে নারী উন্নয়ন মেলা : সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাবলিক লাইব্রেরি শহীদ দৌলত ময়দানে নারী উন্নয়ন মেলা উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন নারী সংগঠনের নারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনাসভা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজারের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর, জাতীয় মহিলা সংস্থা কক্সবাজারের চেয়ারম্যান কানিজ ফাতেমা আহমদ, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হেলেনাজ তাহেরা। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস। আরো বক্তব্য দেন জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার প্রধান নির্বাহী শিউলি শর্মা, মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি দীপ্তি শর্মা, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমা উল হোসনা, উর্মি মহিলা সমিতির সভাপতি হামিদা তাহের, শহর আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা শাহেনা আক্তার পাখি ও ঝিনুকমালা মহিলা সমিতির সভাপতি ফরিদা বেগম।

সভায় বক্তারা বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর অধিকার রক্ষা করাই নারী দিবসের মূল লক্ষ্য।

মেলায় ১৫টি স্টল রয়েছে।


মন্তব্য