kalerkantho


সিডিএ বরাদ্দ পেল ৫০০ কোটি টাকা

জলাবদ্ধতা নিরসনে অবশেষে শুরু হচ্ছে মেগা প্রকল্পের কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



জলাবদ্ধতা নিরসনে অবশেষে শুরু হচ্ছে মেগা প্রকল্পের কাজ

নগরের ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, সমপ্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য চলতি অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নানা বাধা কাটিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ এই মেগাপ্রকল্পের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। আগামী রবিবার প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটির প্রথম সভা ডাকা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘প্রকল্পের অনুমোদনের পর প্রক্রিয়া ঠিক করতেই তিন মাস পেরিয়ে গেল। আর দেরি করার সময় নেই। সামনেই বর্ষা মৌসুম শুরু হবে। এ প্রকল্পের সফলতা পেতে হলে কাজ শুরু করাটা জরুরি।’

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গভর্নমেন্ট অর্ডার (জিও) প্রদান করে। একই দিন চট্টগ্রামের মানুষকে ভালোবেসে ও প্রকল্পের গুরুত্ব অনুধাবন করে একনেক সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিও পাওয়ার পরপরই ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক হওয়ার পর শিগগিরই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। শুরুতেই ৩৬টি খালের মধ্যে ১৬টি খালের কাদা পরিষ্কার ও খননে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পরে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোর প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পের করণীয় নির্ধারণে মনিটরিং কমিটির প্রথম সভা ডাকা হয়েছে জানিয়ে আবদুচ ছালাম বলেন, ‘আগামী রবিবার সকালে মনিটরিং কমিটির প্রথম সভা হবে। এতে গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, সেনাবাহিনীর চিফ ইঞ্জিনিয়ার প্রমুখ উপস্থিত থাকবেন। সভায় কোন প্রক্রিয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ 

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনেক বাধা কাটিয়ে এ প্রকল্প আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। প্রকল্পের মূল চালিকাশক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনেক প্রধানমন্ত্রী আসবেন, যাবেন। কিন্তু শেখ হাসিনার মতো চট্টলদরদী প্রধানমন্ত্রী আর পাওয়া যাবে না।’

আবদুচ ছালাম জানান, ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট একনেকে শর্তসাপেক্ষে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে আহ্বায়ক, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রীকে সদস্য করে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), সিডিএ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি নিয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়। টেকনিক্যাল কমিটির প্রতিনিধিরা বেশ কয়েকবার সভা করে জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কিছু সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেন।

সিডিএ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় শুরুতেই ১৬টি খালের কাদা পরিষ্কার ও খননকাজ শুরু হবে শিগগিরই। সেগুলো হলো-চাক্তাই খাল, বির্জা খাল, রাজাখালী খাল-১, মির্জা খাল, রাজাখালী খাল-২, রাজাখালী খাল-৩, মরিয়মবিবি খাল, হিজরা খাল, মহেশখাল, কলাবাগিচা খাল, ডোমখাল, বামুনশাহী খাল (কোদালাকাটা খাল, কাটা খাল, সানাইয়া খাল, মধুছড়া খালও বামুনশাহী খালের অন্তর্ভুক্ত), চাক্তাই ডাইভারসন খাল (বাকলিয়া খাল নামেও পরিচিত), নোয়া খাল (বাইজ্জা খাল ও বালু খাল নামেও পরিচিত), খন্দকিয়া খাল ও নাছির খাল।

সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আহম্মদ মঈনুদ্দিন জানান, মনিটরিং কমিটির সভার পরপরেই জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। প্রথম ধাপে বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রকল্পের অধীনে ১৬টি খাল পরিষ্কার ও খননকাজ শুরু হবে। প্রকল্প অনুসারে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।



মন্তব্য