kalerkantho


কোম্পানীগঞ্জে আধিপত্য নিয়ে যুবলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের গাংচিল এলাকার আশাবাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতিসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চরএলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক এবং একই ইউনিয়নের মেম্বার মোজাম্মেল হকের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করে আসছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় চরএলাহী ইউনিয়নের দক্ষিণ গাংচিল আশাবাজারে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে গাংচিল ইউপি সদস্য ও চরএলাহী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি মোজাম্মেল হক সন্ত্রাসের অভিযোগ এনে মানববন্ধনের আয়োজন করে। এ খবর পেয়ে চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকের অনুগতরা বাধা দেন কর্মসূচিতে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে মোজাম্মেল মেম্বারসহ উভয় পক্ষের অন্ততপক্ষে ১০ জন আহত হন। আহত মোজাম্মেল মেম্বার ও তাঁর ছেলে বাবলু (১৭), মোহাম্মদ আলী (৩৭), মো. বলি (৩৫), মো. হেঞ্জু মিয়া (৩৮), নূর আলম (৩০) কে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অপরদিকে আবদুর রাজ্জাকের সমর্থক খোকন (৩০), দেলোয়ার (৩৫) ও অন্যদেরকে উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

আহত মোজাম্মেল মেম্বার বলেন, ‘গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে চেয়ারম্যান রাজ্জাক বাহিনীর লোকজন আমার বাড়িতে হামলা করে বোমা বিস্ফোরণ ও লুটপাট চালায়। এর প্রতিবাদে আমি আমার লোকজন নিয়ে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় গাংচিলের আশাবাজারে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করি। চেয়ারম্যান রাজ্জাকের ক্যাডাররা আমাদের মানববন্ধনে হামলা চালিয়েছে।’

চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘মোজাম্মেলের কৃতকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে মানববন্ধনে স্থানীয় জনগণ হামলা চালিয়েছে। আমি বা আমার সমর্থক কেউ হামলা জড়িত নন।’

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে সাংবাদিক ডেকে এক অপরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। আমরা ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেয়নি।’

এ প্রসঙ্গে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল বলেন, ‘এটা তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। এখানে যুবলীগের কোনো দলাদলি নেই।’


মন্তব্য