kalerkantho


সীতাকুণ্ডে স্ত্রীকে হত্যা করে পলাতক পুলিশের ‘সোর্স’

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



উপজেলার সোনাইছড়িতে স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে মোশারফ নামে এক ব্যক্তি। তিনি ওই এলাকায় পুলিশের ‘সোর্স’ হিসেবে পরিচয় দেন। গতকাল সোমবার দুপুরে ভাড়া বাসা থেকে নিহত গৃহবধূ জাহানারা বেগম ওরফে পূর্ণিমার (৩৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি এলাকার পন্থীশাহ মাজার এলাকায় ইউসুফ হাজীর বাড়িতে ঘর ভাড়া নেন। ওই সময় তিনি নিজেকে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ‘সোর্স’ হিসেবে পরিচয় দেন। ঘর ভাড়া নেওয়ার পর সেখানে তিনি দুই স্ত্রী ও তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। মোশারফ পুলিশের ‘সোর্স’ হলেও ইয়াবা কারবারই ছিল তাঁর কাজ। কারবারের টাকা নিয়ে প্রায়ই দ্বিতীয় স্ত্রী জাহানারার সঙ্গে তাঁর ঝগড়া লেগেই থাকত। গত রবিবার মোশারফের সঙ্গে জাহানারার ঝগড়া শুরু হলে প্রথম স্ত্রী তফুরাও মোশারফের সাথে যোগ দিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়।

ঝগড়ার এক পর্যায়ে মোশারফ ও তাঁর প্রথম স্ত্রী দ্বিতীয় স্ত্রী জাহানারা বেগমকে ছেলে সন্তানের সামনে মারধর করে ঘর থেকে চলে যায়। কিন্তু রাতে তাঁরা আবার ঘরে আসে। রাতে খাওয়া দাওয়ার পর মোশারফ জাহানারার ঘরে ঢুকে। এ সময় তাঁর ছেলে রাকিব ও মেয়ে আঁখি পাশের রুমে ঘুমাচ্ছিল। পরদিন সোমবার সকালে ঘুম থেকে জেগে মোশারফ ছেলে রাকিবকে ঘর থেকে অন্য কোথাও চলে যেতে বলে নিজে তিন বছরের মেয়ে আঁখিকে নিয়ে দরজা তালাবন্ধ করে চলে যায়।

এদিকে সকাল পেরিয়ে দুপুর হয়ে গেলেও ঘরে কারো সাড়া শব্দ না পেয়ে এক প্রতিবেশী জানালা দিয়ে উঁকি দিলে একজনকে ঘুমন্ত দেখতে পান। বাইরে তালা এবং দুপুর প্রায় ১২টা পর্যন্ত একজনকে ঘুমন্ত দেখে সন্দেহ হলে তিনি আশপাশের মানুষকে বিষয়টি জানান। এরপর মোশারফের ভাড়া ঘরের পাশে কৌতহূলী মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। শেষে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ তালা ভেঙে ঘর থেকে জাহানারার লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠায়। নিহত গৃহবধূর শরীরে একাধিক রক্তাক্ত জখম আছে। তিনি নোয়াখালীর চাটখিলের বাসিন্দা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শম্পা রাণী সাহা ও সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইফতেখার হাসান। ঘটনার পর নিহতের ৭-৮ বছর বয়সী ছেলে রাকিব ও প্রতিবেশীদের সাথে পুলিশ কথা বলে অনেক তথ্য পেয়েছে বলে থানা সূত্র জানিয়েছে। তারা পুলিশকে জানিয়েছে, মোশারফ সন্দ্বীপের বাসিন্দা।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘যেভাবে ঘটনাটি ঘটেছে তাতে মনে হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহত জাহানারার শরীরে বেশ কিছু গুরুতর জখম ও রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমরা লাশ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মোশারফ ও তাঁর প্রথম স্ত্রী তফুরাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’



মন্তব্য