kalerkantho


বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের নিরাপত্তায় আজ থেকে ট্যুরিস্ট পুলিশ

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



চকরিয়ার ডুলাহাজারায় বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ছিনতাই, মাদকের কারবার ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পার্ক ভ্রমণে এসে দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক-দর্শনার্থী সর্বস্ব খুইয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড রোধে পার্ক কর্তৃপক্ষেরও চেষ্টার কমতি ছিল না। পার্কে বসানো হয় ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। এর পরও মাঝে-মধ্যে ঘটে গেছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

অবশেষে পার্ক কর্তৃপক্ষের অনেক চেষ্টা-তদবিরের পর আজ সোমবার থেকে পার্কের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। ২২ সদস্যের এই ট্যুরিস্ট পুলিশ দলের জন্য স্থাপন করা হচ্ছে স্থায়ী ক্যাম্প।

পার্ক কর্তৃপক্ষ মনে করে, একমাত্র প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের নিরাপত্তার দায়িত্ব ট্যুরিস্ট পুলিশ নেওয়া দেশি-বিদেশি পর্যটক-দর্শনার্থীসহ সবার জন্য সুখবর। এতে পার্কে দর্শনার্থীর সংখ্যাও বাড়বে।

পার্কের সহকারী কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, প্রায় ৯০০ হেক্টর বনজসম্পদ সমৃদ্ধ এ পার্কে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটক-দর্শনার্থীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্যুরিস্ট পুলিশের স্থায়ী একটি ক্যাম্প স্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, ‘এখানে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি ক্যাম্প স্থাপনের জন্য আমাদের পক্ষ থেকেও উপর মহলে আবেদন এবং চেষ্টা-তদবির করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুরো পার্কের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিচ্ছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ।’ আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে পার্কের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, ২২ সদস্যের এই ট্যুরিস্ট পুলিশের দলে থাকছেন একজন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর), দুজন উপ-পরিদর্শক (এসআই), একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং বাকিরা কনস্টেবল। তাঁরা পালাক্রমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। তবে ট্যুরিস্ট পুলিশের জন্য এখনো স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ না হলেও আপাতত তাঁরা একটি রেস্টহাউসে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এবং বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক মো. গোলাম মওলা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাফারি পার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এখানে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ইতোপূর্বে আবেদন করা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। এরই অংশ হিসেবে ক্যাম্পটি স্থাপন করা হচ্ছে।’

প্রকল্প পরিচালক আরো বলেন, ‘মূলত বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক এমন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত যে এলাকা একেবারে স্পর্শকাতর। এখানে রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। মাঝে-মধ্যে শোনা যায় পার্কের অভ্যন্তরে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথাও। দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও যাতে এখানে এসে কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকিতে না পড়েন সেদিকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল বেশি। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সোমবার থেকে পার্কে ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। যা সব মহলের জন্য বলতে গেলে একটা সুখবর।’

তিনি জানান, ট্যুরিস্ট পুলিশের ক্যাম্প স্থাপন এবং আজ থেকে কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোসলেহ উদ্দিন।


মন্তব্য