kalerkantho


ছিনতাইকারী-পুলিশ ‘সাপলুডু খেলা’

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ছিনতাইকারী-পুলিশ ‘সাপলুডু খেলা’

ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ভাইসহ তিন স্বজনের পাসপোর্ট উদ্ধার করতে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে ‘সাপলুডু খেলা’ খেলেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। শনিবার ভোরে ছিনতাই হওয়া পাসপোর্ট পুলিশ ‘উদ্ধার’ করেছে ঘটনার ২০ ঘণ্টার মধ্যেই।

ছিনতাইকৃত ব্যাগে পাসপোর্ট ফেরত দিলেও টাকা ও মোবাইল ফোনসেট দেয়নি ছিনতাইকারীরা। ব্যাগে শুধু ওই তিন পাসপোর্ট ঢুকিয়ে এক টেম্পোচালকের মাধ্যমে পাঠানো হয় পুলিশের কাছে। তবে পাসপোর্ট পেয়েই খুশি পুলিশ। এ কারণে ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের তাত্ক্ষণিক উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিতে পেরে আপাতত গ্রেপ্তার এড়াতে পেরে খুশি ছিনতাইকারীরাও।

পুলিশ-ছিনতাইকারীর এমন ‘সাপলুডু খেলার’ মধ্যে অন্য একজনও বেশ খুশি হয়েছেন। তিনি হলেন প্রতিমন্ত্রীর ভাই আসিফুজ্জামান চৌধুরী। পাসপোর্টগুলো উদ্ধারের পরপরই রাত দেড়টায় তাঁর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন তিনি। রবিবারই তিনি ঢাকার পথে রওনা দিয়েছেন। রবিবার রাতেই তাঁর উড়াল দেওয়ার কথা সিঙ্গাপুরের পথে।

রবিবার বিকেলে কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে আসিফুজ্জামান চৌধুরী পাসপোর্ট ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর মেহেরবাণীতে ছিনতাইকৃত পাসপোর্ট ফিরে পেয়েছি। পুলিশকে ধন্যবাদ। এখন সিঙ্গাপুর যাচ্ছি।’

যেভাবে পাসপোর্ট ‘উদ্ধার’ : শনিবার ভোরে ঢাকা থেকে বাসায় ফেরার পথে নগরের কোতোয়ালী থানার কাছেই ছিনতাইয়ের শিকার হন আসিফুজ্জামানের কর্মী আইয়ুব আনসারী। তাঁকে ছুরিকাঘাত করে ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। ওই ব্যাগে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর ভাই আসিফুজ্জামানের পরিবারের তিনটি পাসপোর্ট ছিল। তাঁদের পাসপোর্টগুলোতে সিঙ্গাপুর ও লন্ডনের ভিসা ছিল। এছাড়া ব্যাগে তিন হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিল আইয়ুব আনসারীর।

ঘটনার পরপরই কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা করা হয়। এ মামলার তদন্তভার পড়ে কোতোয়ালী থানার উপপরিদর্শক ইমদাদ হোসেনের ওপর। পুলিশ অভিযান শুরু করে। শুরুতেই ছিনতাই স্পটে ভোরে চলাচল করেছে এমন লোকদের সম্পর্কে তথ্য নেন তাঁরা। একই সঙ্গে ওই এলাকার চিহ্নিত এক ছিনতাইকারীকে লক্ষ্য করে অভিযান চলে। অভিযানের শেষ প্রান্তে গিয়ে বাকলিয়া থানা এলাকায় ছিনতাইকারীদের অবস্থান নিশ্চিত হয় পুলিশ।

এরপর ভিন্ন একটি মোবাইল ফোন থেকে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। এক পর্যায়ে এরা পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়। কিন্তু পুলিশের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সাহস নেই ছিনতাইকারীদের। এবার সিদ্ধান্ত হয়, এরা পাসপোর্টসহ ব্যাগ একটি স্থানে রাখবে। পরে সেখান থেকে পুলিশ সংগ্রহ করে নেবে। এই দফায়ও ছিনতাইকারীরা ভরসা পাচ্ছিল না। দ্বিতীয় দফা কৌশল পরিবর্তন করে পুলিশের সঙ্গে নতুন সন্ধি হয় ছিনতাইকারীদের।

এবার ওই তিন পাসপোর্ট ব্যাগ ঢুকিয়ে একটি টেম্পোতে তুলে দেয় ছিনতাইকারীরা। ওই টেম্পো কোতোয়ালী থানার মোড়ে এসে পুলিশের কাছে ব্যাগটি হস্তান্তর করে। সেই ব্যাগে তিনটি পাসপোর্ট পায় পুলিশ। তবে তিন হাজার টাকা ও মোবাইল ফোনটি ফেরত দেয়নি ছিনতাইকারীরা। পাসপোর্ট পাওয়ার পরপরই আসিফুজ্জামানের বাসায় গিয়ে পুলিশ পাসপোর্টগুলো হস্তান্তর করে।

এ প্রসঙ্গে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসীম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুজনকে শনাক্ত করা গেছে। তাদের দলে আরো ছিনতাইকারী আছে। এই মুহূর্তে তাদের নাম প্রকাশ করতে চাই না। তবে তারা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়েছে।’

তিনি জানান, পুলিশ মামলার তদন্ত করছে। ছিনতাইকারীদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযান চলমান আছে। পাসপোর্ট উদ্ধার হওয়ার পরপরই আসিফুজ্জামানের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।



মন্তব্য