kalerkantho


জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদ

দ্বিতীয় রাজধানী ডেস্ক   

৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদ

দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন (বামে) এবং নগরে ‘সর্বস্তরের ছাত্র-যুব-সংস্কৃতিকর্মী ও পেশাজীবী জনতা’র বিক্ষোভ মিছিল। ছবি : কালের কণ্ঠ

জনপ্রিয় লেখক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে ফুঁসছে চট্টগ্রাম। গতকাল রবিবার বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ নানা কমসূচি পালন করা হয়। বিস্তারিত নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো খবরে :

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় : রবিবার দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষক সমিতি। এছাড়া সংগঠনটি আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড শিরিণ আখতার কেন বার বার  মুক্তমনা বুদ্ধিজীবীদের ওপর হামলা হচ্ছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় যে ছেলেকে আটক করা হয়েছে তার একার পক্ষে এ হামলা করা সম্ভব নয়। এর পেছনে কে বা কারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।’

শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মাধব চন্দ্র দাসের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এ হামলা ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলা নয়, এ হামলা দেশের স্বাধীনতা চেতনার ওপর হামলা। এ হামলা অসাম্প্রদায়িকতার চেতনার ওপর হামলা। এটি কোনো বিছিন্ন ঘটনা নয়। আমরা অতীতেও দেখেছি এই ধরনের ঘটনা আরো ঘটেছে। তবে এসব ঘটনার বিচার সঠিকভাবে না হওয়ায় ওরা আজ জাফর ইকবালের মতো প্রগতিশীল ব্যক্তিদের হত্যা করতে চায়। এরা বাংলাদেশকে আবার মেধাশূন্য করতে চায়। ১৯৭১ সালের শত্রুরা এখনো সক্রিয়। এরা একই কায়দায় বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সময় এসেছে এদের মূলোৎপাটন করার।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মিহির কুমার রায়ের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ সফিউল আলম, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. মাহাবুবুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালযের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী প্রমুখ। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃিতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো একাত্মতা ঘোষণা করে।

চট্টগ্রাম : ‘সর্বস্তরের ছাত্র-যুব-সংস্কৃতিকর্মী ও পেশাজীবী জনতা’র ব্যানারে রবিবার সন্ধ্যায় নগরের চেরাগি পাহাড় চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চেরাগি পাহাড় চত্বরে এসে শেষ হয়। সমাবেশ থেকে ধর্মান্ধতা ঠেকাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতিশীল শক্তির বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে সংগ্রামের ডাক দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রক্ষমতার জন্য ধর্মান্ধ শক্তির সঙ্গে আপসকারীদের বিরুদ্ধে চাপ তৈরির আহ্বান জানান বক্তারা।

সমাবেশে একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, ‘জাফর ইকবালের ওপর হামলা প্রমাণ করে দেশে মুক্তিযুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। ২৬ মার্চ আমরা স্বাধীনতা পেলেও এবং ১৬ ডিসেম্বর দেশ শত্রুমুক্ত হলেও যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। সেদিন যেমন প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মান্ধ শক্তি আমাদের দেশের মেধাবী সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল, এখনও তারা সেই পথেই আছে। বরং স্বাধীনতার পর তারা ধাপে ধাপে সংঘবদ্ধ হয়েছে। ক্রমাগত শক্তি অর্জন করেছে।’

সমাজ সমীক্ষা সংঘের নির্বাহী পরিচালক শিহাব চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন উদীচী কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. চন্দন দাশ, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, সংস্কৃতি সংগঠক রাশেদ হাসান, সাংবাদিক প্রীতম দাশ, যুব ইউনিয়নের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি রিপায়ন বড়ুয়া, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা অটল ভৌমিক, ছাত্রফ্রন্টের আল কাদেরী জয় প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কাজী নূরুল আবছার, নারীনেত্রী নূরজাহান খান, কবি কামরুল হাসান বাদল, উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সহসভাপতি সুনীল ধর ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শীলা দাশগুপ্তা, গণজাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী শরীফ চৌহান।

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি : সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চট্টগ্রামের ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি (ইডিইউ)। একই সঙ্গে দোষীদের শাস্তি দাবি করা হয়।

গতকাল রবিবার বিকেলে নগরের খুলশীর পূর্ব নাসিরাবাদের ইডিইউ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের যৌথসভায় জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানানো হয়।

ইডিইউর উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সিকান্দার খান বলেন, ‘দেশবরেণ্য লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় সারাদেশে শিক্ষকতা পেশায় জড়িত অন্যদের মনেও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। দেশগড়ার কারিগরদের তৈরি করার দায়িত্ব যাঁদের হাতে তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।’

তিনি শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সামস উদ দোহা, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সজল বড়ুয়া, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, পরিচালক শাফায়েত চৌধুরী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠানে ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলা হয়। আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।



মন্তব্য