kalerkantho


রামগড় বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্র

‘ক্ষমতাধর’ আবাসিক প্রকৌশলী

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



জেলার রামগড় উপজেলা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী মো. মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করেন তিনি। ‘ক্ষমতার দাপটে’ এক যুগের বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে চাকরি করছেন এই প্রকৌশলী। অবশ্য এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ ছাড়া এ কার্যালয়ে ফাইল নড়ে না। কাজও হয় না। কার্যালয়টি অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। শুধু সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহক নন, কার্যালয়ের কর্মচারীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক নেই তাঁর। মো. সোহেল নামের এক কর্মচারী অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাঁকে অন্যত্র বদলি করা হয়।

সাধারণ গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, ইচ্ছামতো গ্রাহকদের বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। আবার টাকার বিনিময়ে বিলের পরিমাণও কমিয়ে দেন প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল নিজেই। অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে দিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেন, আবার টাকা না পেলে ঘোষণা ছাড়াই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

রামগড় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, ‘বিদ্যুৎ লাইনের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটতে বললে আবাসিক প্রকৌশলী টাকা দিতে বলেন আমাকে। গ্রাহকদের প্রতিনিয়ত মামলার ভয় দেখান।’

গ্রাহক সোনাইপুল বাজারের মো. কামরুল বলেন, ‘আমার নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের প্রথমতলার ওপর দিয়ে জোর করে বিদ্যুতের লাইন সম্প্রসারণ করা হয়েছে।’

জগন্নাথপাড়ার বাসিন্দা সুনীল দেবনাথ অভিযোগ করে বলেন, উদ্ভট বিদ্যুৎ বিলের ব্যাপারে কথা বলার জন্য তাঁর কার্যালয়ে গেলে প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল খারাপ আচরণ করে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে অবশ্য ডেকে নিয়ে এক হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।

লো-ভোল্টেজের কারণে নাকাল রামগড়ের অনেক বিদ্যুত্গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, অনৈতিকভাবে টাকা নিয়ে আবাসিক মিটারেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (টমটম) চার্জ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সুবিধাজনক স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর বিনিময়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ওই আবাসিক প্রকৌশলী। রামগড় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল কাদের বলেন, ‘উপজেলা সমন্বয় কমিটির বৈঠকেও এই প্রকৌশলীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য তিরস্কার করা হলেও তাঁর লজ্জা হচ্ছে না।’

রামগড় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, ‘আবাসিক প্রকৌশলী নিয়মিতই গ্রাহকদের সঙ্গে ঝগড়া বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। বিদ্যুৎ বিভাগের নানা অনিয়মের কারণে মানুষও তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ।’ পৌর কাউন্সিলর আবুল কাসেম বলেন, ‘ওই আবাসিক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিয়মকানুনের বালাই করেন না। বিদ্যুৎ বিভাগে যা ইচ্ছে তাই করেন।’

পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহীম বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলীর আচরণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে চাকরি করছেন। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে রামগড় বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে যোগদান করেছিলেন তিনি।

তবে প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

খাগড়াছড়ি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর বলেন, ‘বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 



মন্তব্য