kalerkantho


চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল

২২ প্রকল্পের অজুহাতে ১৫ হাজার গাছ কর্তন

উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



২২ প্রকল্পের অজুহাতে ১৫ হাজার গাছ কর্তন

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সমুদ্র উপকূলে চলছে ২২টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ। আর এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের অজুহাতে কাটা হচ্ছে উপকূলবাসীর জীবন রক্ষাকারী হাজার হাজার ঝাউগাছ। অভিযোগ রয়েছে, কিছু বন কর্মকর্তা ফায়দা লুটতে টেন্ডারের বাইরে নির্বিচারে গাছগুলো কাটা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে এরই মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার গাছ কাটা হয়েছে অথচ টেন্ডারে দেখানো হয়েছে পাঁচ হাজার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও উপকূলীয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়সারা ভাব ও সমন্বয়হীনতার কারণে অহেতুক গাছ কাটা হচ্ছে। কিছু কর্মকর্তা গাছ লুটপাট করতে বাগানের ওপর প্রকল্পের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অথচ পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ নিলে প্রকল্পগুলোর স্থায়িত্ব, সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন সুদৃঢ় হতো।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাঁশখালী ও আনোয়ারায় বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ করছে। এ প্রকল্পের আওতায় বাঁশখালী রেঞ্জের গণ্ডামারা, ছনুয়া, রত্নপুর, প্রেমাশিয়া ও সদর রেঞ্জের বন্দর এলাকায় ২২টি লটে প্রায় পাঁচ হাজার গাছ কাটা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রেমাশিয়া ও রত্নপুর এলাকার পাঁচটি লট বিক্রয় না হলেও বাকি ১৭টি লটের খাড়া গাছগুলো কর্তন শুরু করে দিয়েছে কিছু ব্যক্তি। ঝাউ ও স্ট্রিপ শ্রেণির বাগানগুলো ১৯৯৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্পে সৃজন করা হয়েছে। অথচ এত গাছ কাটার নিয়ম দরপত্রে নেই।

চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘উন্নয়নের স্বার্থে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপকূলীয় গাছ কাটা হচ্ছে। পাউবোর সঙ্গে বন বিভাগের সমঝোতা স্মারকে ৪ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে বাঁধ নির্মাণের স্বার্থে শর্ত সাপেক্ষে গাছ কাটতে হবে। পরবর্তী সময়ে পাউবোর পক্ষ থেকে বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হলে ফের বনায়ন হবে। এরই মধ্যে ৫৫০ হেক্টর নতুন ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজনের একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে মহেশখালীতে ৩০ হেক্টর নতুন বাগান সৃজনে অর্থ বরাদ্দ মিলেছে।

বাঁশখালী সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. অলিউর ইসলাম বলেন, বাঁশখালীতে পাঁচটি লটে এক হাজার ৪৩২টি গাছ কাটা হচ্ছে। পাউবো ও বন বিভাগের চুক্তি অনুসারে গাছগুলো কর্তন করা হচ্ছে। উন্নয়নকাজের স্বার্থে গাছ কাটতে কোনো বাধা নেই। যে পরিমাণ গাছ বিক্রয় করা হয়েছে তার চেয়ে বেশি কাটার কোনো সুযোগ নেই।

বাঁশখালীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রকল্পভুক্ত এলাকা চিহ্নিত করে গাছের সংখ্যা নিরূপণ করে দিয়েছি। অতিরিক্ত ঝাউবন কাটা হলে আমাদের কিছু করার নেই।’

বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু কিছু কর্মকর্তারা দায়সারা ভাব ও দেশপ্রেমের অভাবে অপরিকল্পিতভাবে কাটছে। নকশার গতিপথ পাল্টে প্রকল্পের সীমানা নির্ধারণ হলে বরঞ্চ প্রকল্পগুলো আরো শক্তিশালী ও মজবুত হতো।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে বেজা ও বেপজার অর্থনৈতিক অঞ্চল, অনন্ত অ্যাপারেলস পার্ক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প, নাফ ট্যুরিজম পার্ক, সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক, মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল (সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা), জিটিসিএল পাইপলাইন স্থাপন, এসপিএম প্রকল্প, পেট্রোবাংলার অনুসন্ধান কূপ খনন, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট, করিয়াদিয়া ইজিসিবি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, মগনামা সাবমেরিন ঘাঁটি, চায়না ইপিজেড, কর্ণফুলী টানেল, কাট্টলী সাবমেরিন ঘাঁটি প্রকল্প, নৌ জেটি স্থাপন, সীতাকুণ্ড সন্দ্বীপ সাবমেরিন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প এলাকায় থাকা খাড়া গাছগুলো কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছে উপকূলীয় বন বিভাগ।



মন্তব্য