kalerkantho


চকরিয়ায় চারটি নির্মাণকাজে জাপা এমপির নামফলক ছিনতাই

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



চকরিয়ায় চারটি নির্মাণকাজে জাপা এমপির নামফলক ছিনতাই

উপজেলায় চারটি স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণকাজ জাতীয় পার্টির স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াছ উদ্বোধন করবেন বলে যে নামফলক লাগানো হয়েছিল তার একটি ছিনতাই হয়েছে, বাকিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে এবং আগের দিন বুধবার চকরিয়ার ঢেমুশিয়া, কাকারা, হারবাং ও চিরিঙ্গা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে অভিযোগ করেছে থানায়। জাতীয় পার্টির অভিযোগ—এসব ঘটনার পেছনে আওয়ামী লীগ নেতারা জড়িত।

জাতীয় পার্টির চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াছ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢেমুশিয়ায় নামফলক ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রুস্তম আলী এবং তাঁর সহযোগী যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিন জড়িত। উপজেলার হারবাং, কাকারা ও চিরিঙ্গা ইউনিয়নে বুধবার রাতের আঁধারে তিনটি বিদ্যালয়ের নামফলক গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব ঘটনায়ও আওয়ামী লীগের নেতারা জড়িত।’

চকরিয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে বুধবার রাতে সাংবাদিকদের জানানো হয়, বিদেশি একটি সংস্থার অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চলতি অর্থবছরে চকরিয়া উপজেলায় তিনতলা বিশিষ্ট ১০টি ও পেকুয়া উপজেলায় সাতটি স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হবে। এসব ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করার জন্য নিজ নিজ বিদ্যালয়ের খোলা জায়গায় নামফলক স্থাপন করা হয়। ইলিয়াছ অভিযোগ করেন, বুধবার সকালে ঢেমুশিয়ায় জামাল উদ্দিন চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মিতব্য স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণকাজ উদ্বোধন করতে যান। তখন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানায়, নামফলকটি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুস্তম আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন নিয়ে গেছেন। বিষয়টি তাত্ক্ষণিক থানার ওসিকে জানালে পুলিশ রুস্তম আলীর হেফাজত থেকে দুপুরে নামফলকটি জব্দ করে। স্কুলটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রায় ২০ মিনিট আগে মোটরসাইকেলে এসে নামফলকটি নিয়ে যান রুস্তম আলী, যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিনসহ আরো কয়েকজন।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে রুস্তম আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আমিও কষ্ট করেছি। এই বিদ্যালয়ের পেছনে আমার যথেষ্ট অর্থকড়িও খরচ হয়েছে। কিন্তু আমাদের না জানিয়ে, আমাদের সরকারের আমলে জাতীয় পার্টির এমপির নামে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছিল। বিষয়টি দলের কর্মীরা ভালোভাবে মেনে নিতে না পারায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশের অংশ হিসেবে নামফলকটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য ফেরত দিয়েছি।’

জানা গেছে, কাকারা ইউনিয়নের দক্ষিণ কাকারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হারবাং ইউনিয়নের নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চরণদ্বীপ ডুলখালী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তরে স্থানীয় এমপি ইলিয়াছের নাম দেখে এসব গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে কাকারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শওকত ওসমান কালের কণ্ঠকে বলেন, রাতের আঁধারে ভিত্তিপ্রস্তরের নামফলক গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এর নিন্দা জানাচ্ছি। তবে জাতীয় পার্টি এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও এলজিইডির কর্মকর্তাদের উচিত ছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া। কেননা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই এসব উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ সাধিত হচ্ছে। তাই আওয়ামী লীগ নেতাদের অবমূল্যায়ন তৃণমূল কর্মীরা মেনে না নেওয়ার অংশ হিসেবে বিচ্ছিন্ন এসব ঘটনার জন্ম হয়েছে। হারবাং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিরানুল হকও একই ধরনের কথা বলেন। 

চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এমপি মহোদয়ের কাছ থেকে প্রথমবার ঘটনা শুনে তাত্ক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়ে নামফলকটি উদ্ধার করি। অন্য তিন বিদ্যালয়ের ঘটনায় কারা জড়িত রয়েছে, সে ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’


মন্তব্য