kalerkantho


বেহাল কাপ্তাই সড়ক, ধুলোবালি থেকে বাঁঁচতে মাস্ক

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বেহাল কাপ্তাই সড়ক, ধুলোবালি থেকে বাঁঁচতে মাস্ক

গতকাল কাপ্তাই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করে সামাজিক সংগঠন এন এইচ ফাউন্ডেশন। ছবি : কালের কণ্ঠ

বেহাল কাপ্তাই সড়কে ধুলোবালি থেকে বাঁচতে গণসচেতনতা বাড়ানো এবং ওয়াসার কাজের ধীরগতির প্রতিবাদে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেছে এন এইচ ফাউন্ডেশন।

গতকাল বুধবার সকালে সড়কের পাহাড়তলী বাজার, চট্টগ্রাম প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গেট, চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথচারী, দোকানদার, শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রায় পাঁচ হাজার মাস্ক বিতরণ করে স্থানীয় সামাজিক সংগঠনটি।

সকাল ১১টায় পাহাড়তলী গ্রামার স্কুল প্রাঙ্গণে মাস্ক বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন পাহাড়তলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন।

এন এইচ ফাউন্ডেশনের সভাপতি নাহিদ হোসেন জানান, চট্টগ্রাম ওয়াসার অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি ও কাজের দীর্ঘসূত্রতার কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ কাপ্তাই সড়কজুড়ে ধুলোবালি উড়ছে। এতে খুদে শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের চলাচলে বেশ অসুবিধা হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে কাপড়চোপড়। সবচেয়ে বেশি মারাত্মক বিষয় হল ধুলোর কারণে শ্বাসকষ্ট রোগী বাড়ছে। ধুলাবালি ও রোগজীবাণু থেকে মুক্তির জন্য মাস্ক ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করতে এন এইচ ফাউন্ডেশনের এ কর্মসূচি নিয়েছে। এটি ওয়াসার অপরিকল্পিত কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের পুরোটা সময় দুর্ভোগের মাত্রা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল উত্তর চট্টগ্রামের সবচেয়ে ব্যস্ত চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে। এখনো বন্ধ হয়নি ধুলোবালির রাজত্ব। প্রায় চার বছর আগে চট্টগ্রাম ওয়াসার অধীনে রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকায় ‘শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে সড়কের উত্তর পাশে খুঁড়ে সরবরাহ লাইন নেওয়া হয়। তখন দুর্ভোগের সীমা কিছুটা সহনীয় ছিল। ২০১৬ সালের নভেম্বরে এবং ২০১৭ সালের শুরুর দিকে সড়কের দক্ষিণ পাশে সরবরাহ লাইন নিয়ে যাওয়ার জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়। এতে সড়কের ওই পাশটিও খুঁড়ে ফেলা হয়। ফলে সড়কের পুরো অংশজুড়ে বিটুমিনের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়।

পাইপলাইন নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশাল বিশাল গর্ত করার কারণে পুরো কাপ্তাই সড়ক এখন প্রায়ই ইটের সড়কে রূপ নিয়েছে। এ অবস্থায় সারাবছর প্রচুর ধুলোবালির মুখোমুখি হতে হয় যাত্রীদের। রুমাল কিংবা মাস্ক দিয়ে নাকঢাকা ছাড়া চট্টগ্রাম শহর কিংবা রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, কাপ্তাই, হাটহাজারী উপজেলার বাসিন্দাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যাত্রীদের চলাফেরা দায় হয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, গত কিছুদিন ধরে এ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। তবে সড়কটির বৃহৎ অংশের অবস্থা এখন নাজুক, ধুলোবালির রাজত্ব রয়ে গেছে। সড়কে পথ চলতে গিয়ে ধুলোবালির কারণে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মাঝে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের শরীরে সর্দি, হাঁপানি, এলার্জিসহ বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধছে।



মন্তব্য