kalerkantho


আইনেরও প্রয়োগ নেই!

চলন্ত গাড়িতে চালকের ফোনে কথা বলা বন্ধ হচ্ছে না

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চলন্ত গাড়িতে চালকের মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও তা মানা হচ্ছে না। এটি বন্ধে আইন থাকলেও এর কার্যকর প্রয়োগ নেই!

একটি ওষুধ কম্পানির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম টিপু, সমবায় প্রতিষ্ঠানের শাখা ব্যবস্থাপক রনজন ঘোষ ও এহসানুল হক খসরু নগরে গণপরিবহনের নিয়মিত যাত্রী। বিভিন্ন সময় তাঁদের নগরের বাইরেও যেতে হয়।

জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, প্রায়ই গণপরিবহন ও ট্রাকচালকদের ফোনে কথা বলতে দেখা যায়। এতে প্রায়ই ছোট-খাটো দুর্ঘটনা ঘটে। যা গণমাধ্যমে আসে না। শুধু বড় দুর্ঘটনা ঘটলেই জানাজানি হয়।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (এডিসি) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘গাড়ি চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার নজরে পড়লেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া আছে। নগরে প্রতিদিনই এ সংক্রান্ত মামলাও হচ্ছে।’

নগর পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে ট্রাফিক বিভাগ থেকে প্রতিমাসে নগরে চলাচলকারী গাড়ির মালিক ও চালকের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রতিবারই কর্মসূচিতে ১০০ থেকে ১৫০ মালিক-চালক অংশ নেন।

আইন প্রয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সব কিছু আইন প্রয়োগ করে হয় না। এটি সামাজিক সচেতনতার বিষয়ও। অনেক সময় চালক যেখানে পুলিশ থাকে না সেখানে ওই কাজ করে।’

তবে তিনি মনে করেন, চলন্ত যানবাহনের চালকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে যাত্রীদেরও প্রচেষ্টা থাকা প্রয়োজন।

দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা বলেন, ‘সড়ক-মহাসড়কে চলন্ত অবস্থায় গাড়ি চালকদের ফোনে কথা বলা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এছাড়া দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, ওভারটেকিং, অপরিপক্ব চালকসহ বেশ কিছু বিষয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাঝে-মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় গাড়িচালকদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে বিআরটিএর কর্মকর্তারাও থাকেন। এছাড়া পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা আনতে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাও চালু করেছি।’ 

হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের নিয়ন্ত্রিত সড়কে দুর্ঘটনা রোধে ছয়মাস অন্তর চালকদের নিয়ে মতবিনিময় প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে কদমতলীসহ বিভিন্ন বাস টার্মিনালে প্রতিদিন গাড়িচালক ও যাত্রীদের উদ্দেশে মাইকিং করি। গাড়িচালকদের চলন্ত অবস্থায় মোবাইলে কথা না বলা, নেশাদ্রব্য গ্রহণ করে গাড়ি না চালানো, ওভারটেকিং না করা এবং যাত্রীদের উদ্দেশ্যে অপরিচিত কারো কাছে থেকে কিছু না খাওয়া-এ ধরনের সতর্কতামূলক প্রচার চালাই। এর পরও মাঝে-মধ্যে যে চালকেরা মোবাইলে কথা বলেন না তা নয়।’


মন্তব্য