kalerkantho

কোটি টাকার ফুল বিক্রি!

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কোটি টাকার ফুল বিক্রি!

গতকাল ভালোবাসা দিবসে লাল গোলাপ দিয়ে বানানো ভালোবাসার প্রতীকে ছবি তোলা এবং পরবর্তী এক ঘণ্টার মধ্যে বাছাইকৃতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মতো ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে একটি মোটরসাইকেল কম্পানি। চট্টগ্রাম নগরের সিআরবি পাহাড়ের পাদদেশ তরুণ-তরুণীদের জন্য আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে রীতিমতো ভিড় লেগেই ছিল দিনভর। ছবি : রবি শংকর

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ঘিরে চকরিয়ার ‘গোলাপনগর’ বরইতলী-হারবাং এলাকায় এবার ফুল বিক্রি ও দাম আশানুরূপ হওয়ায় বেশ খুশি চাষিরা। দিবসটি উপলক্ষে এখানে অন্তত কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।

এখানকার ফুলবাগানে পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করেন। গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, গাঁদা, জারবেরাসহ হরেক রকম ফুলচাষ হয় এখানে।

চকরিয়ার বরইতলী থেকে পাইকারি কিনে চট্টগ্রাম নগরে ফুল বিক্রি করেন সুভাষ দে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এমনিতে প্রতিদিন গড়ে ৫-১০ হাজার ফুল কেনা হয় চকরিয়ার বরইতলী থেকে। আর বিশেষ দিবসে তা কয়েকগুণ ছাড়িয়ে যায়। এবারের বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আগাম অর্ডার দিয়েছিলাম প্রায় ৫০ হাজার গোলাপ ও গ্লাডিওলাস ফুলের।’

 

চরকরিয়ার ‘গোপালনগর’ বরইতলী-হারবাং এলাকার ফুলচাষির মুখে হাসি এনেছে ভালোবাসা দিবস। এবার আশানুরূপ ফুল বিক্রি হওয়ায় তাঁরা বেশ খুশি। ছবি : কালের কন্ঠ

 

বরইতলী একতাবাজার এলাকার ফুলচাষি নজির আহমদ বলেন, ‘তামাকচাষ ছেড়ে রকমারি ফুলের চাষ করছি কয়েকবছর ধরে। বাগানে ফলনও বেশি হওয়ায় দামও পাচ্ছি আশানুরূপ।’

তিনি জানান, প্রতিদিন খুব ভোরে বাগান থেকে ফুল তোলা হয়। ওই সময় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাইকাররা সরাসরি এসে কিনে নিয়ে যান। অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী আগাম অর্ডার দিয়ে রেখেছেন ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে। এবার কম করে হলেও দুই লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেছি আমি।’

চাষিরা জানান, এবার প্রতিটি গোলাপের দাম মানভেদে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে চার থেকে পাঁচ টাকায়। আর বিভিন্ন রংয়ের গ্লাডিওলাস ফুল বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়।’

সরেজমিন ফুলচাষি ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘গোলাপ ফুলের গ্রাম’ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নের শতাধিক বাগান থেকে প্রতিদিন চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গোলাপ ও গ্লাডিওলাস ফুল সরবরাহ করা হয় পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে।

বিশেষ দিনগুলোতে এখানকার ফুলের ব্যাপক কদর রয়েছে। গত দুই দশক ধরে এখানকার চাষিরা রুটি-রুজির একমাত্র অবলম্বন হিসেবে ফুলচাষ করে আসছেন।

প্রথমদিকে সামান্য জমিতে নানা জাতের ফুলের চাষ হলেও বর্তমানে দুই ইউনিয়নের ১০০ একর জমিতে ফুলচাষ হচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নের অন্তত ১০০ একর জমিতে পুরোদমে ফুলচাষ করেছেন হাজারো চাষি। ভালোবাসা দিবসসহ বিভিন্ন দিবসে ফুল বিক্রি ভালো হয়। এতে আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হন চাষিরা।’

তবে চকরিয়া ফুল ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক মো. মইনুল ইসলাম দাবি করেছেন, বর্তমানে ফুলের কদর বেশি থাকলেও পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম দিতে গড়িমসি করছেন। এতে অনেক চাষি ভালো দাম পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন।

হিসাব করে তিনি বলেন, ‘এবার ভালোবাসা দিবস ঘিরে এখানকার বাগান থেকে কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে।’



মন্তব্য