kalerkantho

বর্ণিল আয়োজনে বসন্ত বরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বর্ণিল আয়োজনে বসন্ত বরণ

গতকাল চট্টগ্রাম নগরের ডিসি হিলে বসন্ত উত্সবে শিশুদের পরিবেশনা। ছবি : রবি শংকর

শীতের জরাজীর্ণতা ভুলে নতুনের আহ্বানে বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হল বাসন্তী উত্সব। মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্সব জমেছিল মূলত নগরের সিআরবি এলাকার শিরিষতলা এবং ডিসি হিলে। বয়স্ক থেকে শিশু, সবাই এসেছে বসন্ত উত্সবে।

ডিসি হিলের আয়োজনটি ছিল আবৃত্তি সংগঠন বোধনের। এতে সকাল থেকে শুরু হয় বসন্তপ্রিয় বাঙালির পদচারণা। শিল্পীদের গানের তালে তালে মন মাতান সবাই। পলাশ গাছের নিচে বসে শিল্পীদের ‘এলো বনান্তে পাগল বসন্ত’, ‘আজ বসন্ত জাগ্রত দ্বারে’, ‘অযুত বত্সর আগে হে বসন্ত, প্রথম ফাগুনে মত্ত কৌতূহলী’ গানগুলো শোনার পাশাপাশি নিজেকে মোবাইলের ফ্রেমে বন্দী করেন তরুণ-তরুণীরা।

আনন্দমুখর পরিবেশে সকাল সাড়ে নয়টায় ওই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান। অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাই কমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোধন আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি সুজিত রায়।

বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে শ্রোতাদের ধ্যানমগ্ন করে রাখেন বেহালা শিল্পীরা। ভায়োলেনিস্ট চিটাগাংয়ের শিল্পীরা এ পরিবেশনায় অংশ নেন।

চট্টগ্রামের আরেক আবৃত্তি সংগঠন প্রমার আয়োজনে সিআরবির শিরিষতলায় দিনব্যাপী বসন্ত বরণ উত্সব অনুষ্ঠিত হয়। সকালে নৃত্যশিল্পী প্রমা অবন্তীর দলের নাচের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রমার বসন্ত বরণ। গান, আবৃত্তি, নাচ আর কথামালায় চলতে থাকে এ আয়োজন।

কথামালা পর্বে নগর পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার বলেন, ‘বসন্ত উত্সব বাঙালির প্রাণের উত্সব। শহরে সভ্যতার চর্চা করতে গিয়ে আমরা বাঙালিরা অনেক চিরায়ত উত্সব হারিয়েছি। এ উত্সব মনে করিয়ে দেয় আমরা বাঙালি। অসামপ্রদায়িক চেতনার ধারক বাঙালি।’

কথামালার পরপরই শান্ত, সুনিবিড় শিরিষতলা হয়ে ওঠে বাঙালির সম্মিলনস্থল। মাথায় লাল, হলুদ ফুল। হলুদ শাড়ি পরে বাসন্তী সাজে সেজে নারী, হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে জড়িয়ে পুরুষ। কারও গায়ে আবার পলাশ রঙে রাঙা পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবি অথবা শাড়ি জড়িয়ে শিশুরা শামিল হয়েছে বসন্ত বরণে।

চট্টগ্রাম মডেল পাবলিক স্কুলে  বাসন্তী উত্সব উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রীড়া আয়োজনের পাশাপাশি ছিল পিঠাপুলি, আড্ডা আর অভিভাবক সমাবেশ।

শিক্ষার্থীদের একক, দলীয় নৃত্য, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে দিনভর মুখর ছিল ডিসি হিল সংলগ্ন স্কুল ক্যাম্পাস।  উত্সবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নোমান বলেন, ‘শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা আর শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের একটি পরিবার হিসাবে গড়তে বাসন্তী উত্সব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় : বর্ণিল অয়োজনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্ত বরণ করল উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ উত্সব উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত মাহমুদ সেলিম।

অনুষ্ঠানে ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। ঋতুর আবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামবাংলা নবরূপে সজ্জিত হয়। ফাল্গুন-চৈত্র মাস বসন্তকাল। শীতের শূন্যতা কাটিয়ে আমের মুকুলের ঘ্রাণে অভিষেক হয় বসন্তের। গাছের শাখা-প্রশাখায় সবুজ কিশলয় তারুণ্যের বুকে জাগিয়ে তোলে জীবনের নব উচ্ছ্বাস। এ উচ্ছ্বাস তারুণ্যের শক্তিকে প্রাণিত করে সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।’

দিনব্যাপী বসন্ত উত্সব কর্মসূচিতে ছিল গণসংগীত, নৃত্য, মূকাভিনয়, আবৃত্তি, নাটক, গম্ভীরা, আদিবাসী গান ও নৃত্য, পুতুল নাচ, বাউল গান ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার, বাংলা বিভাগের সভাপতি ড. মহীবুল আজিজ, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ডা. চন্দন দাশ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ।



মন্তব্য