kalerkantho


মাতামুহুরীতে নতুন সেতু কবে হবে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মাতামুহুরীতে নতুন সেতু কবে হবে

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীর ওপর সেতুটি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে অন্তত তিন বছর আগেই। সেতুর উপরে-নিচে জোড়াতালি দিয়ে ধস ঠেকানোর কাজ করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। দিন দিন বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকি।

সরকার কক্সবাজার ঘিরে অনেক মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্প ঘিরে দেশি-বিদেশিদের আসা-যাওয়া বেড়েছে। সবার যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কপথ। শুধু তাই নয় পর্যটন খাতের ব্যবসার প্রায় পুরোটা নির্ভরশীল এ সড়কপথ বা সেতু। ফলে সেতুটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। যেকোন মুহূর্তে সেতুটি ধসে পড়লে বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় কক্সবাজারের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা বাড়ছে। এলাকাবাসীর মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে ক্রমাগত। এ নিয়ে গতকাল বুধবারও বেশ কটি সংগঠন মানববন্ধন করেছে।

বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে একাত্মতা প্রকাশ করে কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম লিটু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জনদাবি মাতামুহুরী নদীর উপর দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ। সেটি এখনই করা সম্ভব হবে না। নির্মাণ করতে কিছুটা সময় লাগছে সেজন্য সেতুর মেরামত কাজ হতে হবে দৃশ্যমান ও দ্রুত। শুধু বালুর বস্তা দিয়ে নদীর প্রবল পানির স্রোত কখনো ঠেকানো যাবে না। আর লোহার পাত দিয়ে যানবাহনের প্রবল চাপ সামাল দেওয়া যাবে না। এজন্য সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত একটি শক্ত মেরামত কাজ করতে হবে।’

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও  সেতু সচল রাখার দায়িত্ব সরকারি সংস্থা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। সংস্থাটি কি করছে?-জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘‘আমজনতা কি বলছে বা করছে সেটি নিয়ে আমাদের কোনো হেডেক-মাথাব্যথা নেই। আমরা আমাদের মতো কাজ করছি। ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘রেট্রোফিটিং’ ডিজাইন অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি থেকে এই প্রকল্পের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদার মেজবাহ অ্যাসোসিয়েটস এখন সেতুর নিচে কাজ করছে। পরবর্তী ছয়মাস অর্থাৎ জুন মাসে এই কাজ শেষ হবে।’’

তিনি জানান, ‘রেট্রোফিটিং’ ডিজাইনে কী পরিমাণ গাড়ি চলাচল করে সে অনুযায়ী দুর্বল পিলারগুলো মেরামত করা হবে, স্টিল পাইপ দিয়ে ঝুঁকি কমানো হবে। এরপর আমরা সেতুর উপরে থাকা ভাঙা অংশের মেরামত কাজ করব। সেখানে স্ল্যাব বসিয়ে বিদ্যমান সেতুর মতোই সমান করে দেওয়া হবে।

রানাপ্রিয় বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা সীমিত সময়ের জন্য এই মেরামত কাজটি করছি। অর্থাৎ নতুন ছয় লেন সেতুর নির্মাণ হওয়ার আগ পর্যন্ত এভাবে সচল রাখার চেষ্টা করব।’

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারে একাধিক জনসভায় সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু চার লেন সড়কের এখনো অর্থায়ন চূড়ান্ত হয়নি। এ কারণে চার লেনের আগেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চারটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে চার লেন বিশিষ্ট সেতুগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুগুলো হচ্ছে, চকরিয়া মাতামুহুরী সেতু, দোহাজারী সাঙ্গু সেতু, চন্দনাইশের বরগুনি সেতু ও পটিয়ার ইন্দ্রপুল সেতু। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এর অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ৩০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুগুলো নির্মাণ করছে। ‘ক্রস বর্ডার ইমপ্রুভমেন্ট নেটওয়ার্কের আওতায় সেগুলো নির্মিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে সবগুলো সেতুর মাটি পরীক্ষা, স্থান নির্বাচন ও ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সেতুগুলোর সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে চার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার সৈয়দা তানজিমা সুলতানা গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সেতুগুলোর স্থান নির্বাচন, মাটি পরীক্ষা, ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থায়নও চূড়ান্ত হয়েছে। গত সপ্তাহে সেতু নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। মার্চে দরপত্র খোলার পর, মূল্যায়ন এবং এপ্রিল নাগাদ ঠিকাদার চূড়ান্ত হবে। এরপর সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে শেষ হতে তিন বছর লাগবে।’


মন্তব্য