kalerkantho


কক্সবাজারে ‘হোটেল শৈবাল রক্ষা’ আন্দোলন

সেই সাইনবোর্ড সরানো হলেও কাটেনি সংশয়

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আন্দোলনের মুখে পর্যটন হোটেল শৈবালে স্থাপিত ওরিয়ন গ্রুপের সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হলেও সংশয় কাটেনি আন্দোলনকারীদের। ইজারা দেওয়া থেকে হোটেলটি ‘রক্ষা’র দাবিতে তাঁরা আগামী দুই সপ্তাহের জন্য তাদের ডাকা হরতাল স্থগিত করেছেন। তিন তলা বিশিষ্ট পর্যটন হোটেল শৈবাল, সুইমিংপুল, দিঘি এবং তত্সংলগ্ন ১৩০ একর জমি ইজারা না দেওয়ার দাবিতে ‘কক্সবাজারের সম্পদ রক্ষা আন্দোলন’ নামে সংগঠনের ব্যানারে গতকাল বুধবার কক্সবাজারে হরতাল আহ্বান করা হয়েছিল।

আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রাইভেট-পাবলিক-পার্টনারশিপের আওতায় হোটেল শৈবাল ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে।

হোটেল শৈবালের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, গত মঙ্গলবার সকালে তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সাইনবোর্ডটি সরিয়ে ফেলেছেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ নিয়ে কক্সবাজার সাগরপাড়ের হোটেলটি গোপনে নামমাত্র টাকায় ৫০ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এমনকি অত্যন্ত গোপনে ওরিয়ন গ্রুপ নামে একটি ‘বিতর্কিত’ প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ মাত্র ৬০ কোটি টাকায় তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

গত বছরের নভেম্বরে হঠাৎ কিছু লোক এসে ওরিয়ন গ্রুপের ওই সাইনবোর্ড হোটেল শৈবাল সংলগ্ন এলাকায় পুঁতে দিয়েছিল। সাইনবোর্ডে লেখা ছিল, ‘ওরিয়ন ট্যুরিজম এন্ড এন্টারটেইনমেন্ট।’ সাইনবোর্ডটি স্থাপনের পর আলোচনায় আসে হোটেল শৈবাল ইজারা দেওয়ার বিষয়টি।

পর্যটনের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে জড়িত হোটেল শৈবাল ইজারা দেওয়ার কথা শুনে রাজনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ নানা পেশাজীবী লোকজন এগিয়ে আসেন। ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে তাঁরা মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা শুরু করেন। এমনকি আন্দোলনের মুখে সরকারের পর্যটনমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছুটে আসেন কক্সবাজারে। আন্দোলনকারীদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় পর্যটনমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দেবেন বলেন জানান।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার জানান, শৈবালের ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল করা না হলে আরো কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘শৈবাল ইস্যুতে কক্সবাজারের মানুষ আন্দোলন করছে। তাঁরা হরতালও ডেকেছে। এই পরিস্থিতির কথা আমি পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলকে জানিয়েছি। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ওরিয়ন গ্রুপের সাইনবোর্ড তুলে ফেলা হয়েছে।’



মন্তব্য