kalerkantho


জখম অবস্থায় অন্যটি উদ্ধার

পথ হারানো হরিণ পিটিয়ে মারল গ্রামবাসী

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পথ হারানো হরিণ পিটিয়ে মারল গ্রামবাসী

গতকাল খাবারের সন্ধানে কয়েকটি হরিণ আসে লোকালয়ে। গ্রামবাসীর হাতে মারা পড়ে একটি (বামে)। উদ্ধার করা আহত হরিণটি চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসা একটি চিত্রা হরিণকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গ্রামবাসীর লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছে আরেকটি হরিণ। পরে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় জীবিত হরিণটি উদ্ধার করে ফেনী বন বিভাগের চিড়িয়াখানায় পাঠিয়ে দেন বন কর্মকর্তারা। গতকাল বুধবার ভোরে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড-বাঁশবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ওই দুই ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকার বন থেকে খাদ্যের সন্ধানে কয়েকটি হরিণ উপকূলীয় গ্রামে নেমে আসে। হরিণ দেখতে পেয়ে গ্রামের কিছু লোক ধাওয়া দেয়। এ সময় তারা ইট-পাটকেল, লাঠিসোঁটা, দা ইত্যাদি নিয়ে হামলা চালায়। এতে কিছু হরিণ বনে ফিরে গেলেও দুটি হরিণ পথ হারিয়ে ফেলে। গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে হরিণ দুটি উপকূল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ঢাকা-চট্টগ্রামের মহাসড়কের ধারে চলে আসে। তবে একটি হরিণ আহত হয়ে বাড়বকুণ্ড বাজার সংলগ্ন এলাকায় এসে ঢলে পড়ে মারা যায়। অন্য হরিণটি আহত অবস্থায় বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের মহাসড়ক সংলগ্ন আর আর টেক্সটাইল মিলসের পশ্চিমে হোসেন মিস্ত্রিবাড়ি এলাকায় একটি ডোবায় পড়ে যায়। ওই বাড়ির আশপাশের ছিদ্দিক আহমেদ, সাইফুল, রবিসহ কয়েকজন হরিণটিকে ডোবা থেকে উদ্ধার করে একটি ঘরে আটক করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী জাহাঙ্গীরকে খবর দেন। চেয়ারম্যান হরিণটিকে সযত্নে রাখার নির্দেশ দিয়ে বন বিভাগকে খবর দেন। কুমিরার রেঞ্জ অফিসার মো. বশির আহমেদ দ্রুত সেখানে ছুটে যান। পরে চেয়ারম্যান শওকত আলী জাহাঙ্গীর হরিণটি বন কর্মকর্তা বশির আহমেদের হাতে তুলে দেন। পরে সেটি ফেনী বন বিভাগের চিড়িয়াখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে বাঁশবাড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী জাহাঙ্গীর বলেন, ‘কয়েকটি হরিণ উপকূলীয় বন থেকে লোকালয়ে ঢুকে পড়ার পর স্থানীয় কিছু লোক সেগুলো ধরার চেষ্টায় ধাওয়া করে। এতে একটি হরিণ বাড়বকুণ্ড এলাকায়, অন্যটি বাঁশবাড়িয়া চলে আসে। হরিণটি আহত ছিল। পায়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে আহত হরিণটি নিরাপদে রাখতে বলি। পরে বন বিভাগকে খবর দিয়ে কুমিরা রেঞ্জার বশির আহমেদের হাতে তুলে দিই।’

কুমিরা বন বিভাগের রেঞ্জার বশির আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বাঁশবাড়িয়ায় আটক আহত হরিণটিকে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার পরামর্শে ফেনী বন বিভাগের চিড়িয়াখানায় পাঠিয়ে দিয়েছি। অন্যদিকে বাড়বকুণ্ডে নিহত হরিণটি বন কর্মকর্তারা উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জনের কাছে নিয়ে যান। সেখানে সেটির পোস্টমর্টেম করা হয়।’

সীতাকুণ্ড উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শাহাজালাল মো. ইউসুফ জানান, ‘হরিণটির মাথা ও মুখে গুরুতর জখম পাওয়া গেছে। এছাড়া শরীরে আরো আঘাত ছিল।’ এলাকাবাসীর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হরিণটি মারা গেছে বলে তিনি জানান।

সীতাকুণ্ড উপকূলীয় বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘উপকূল থেকে খাদ্যের সন্ধানে আসা দুটি হরিণের মধ্যে একটি বাড়বকুণ্ডে মারা গেছে। অন্যটি জীবিত ধরা পড়ে বাড়বকুণ্ডে। নিহত হরিণটিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে পোস্টমর্টেম করা হলে গায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে হরিণটি মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।’ চিত্রা হরিণ দুটির ওজন ৩০ থেকে ৪০ কেজি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।



মন্তব্য