kalerkantho

শিশু ফাতেমা ধর্ষণ-হত্যা মামলায় আরেকজনের স্বীকারোক্তি

এই নৃশংসতা পরিকল্পিত

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



এই নৃশংসতা পরিকল্পিত

নগরের আকবরশাহ থানা এলাকায় শিশু ফাতেমা আক্তার মীমকে (৯) গণধর্ষণের পর হত্যার সময় ধর্ষক-খুনিরা নৃংশসতার ভয়াল রূপ ধারণ করেছিল। পরিকল্পিতভাবে তাকে বাসায় নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। তাকে শয়নকক্ষে নিয়েই পা বেঁধে গলার উপর ছুরি ধরেছিল খুনিরা।

মামলার আসামি মিরাজের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওঠে আসে ভয়াল নৃশংসতার এ চিত্র।

মঙ্গলবার রাতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম শফি উদ্দিন। আয়শা মমতাজ তাজমহল ভবনের দ্বিতীয় তলায় মিরাজের ভাড়া বাসাতেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর মিরাজ দাবি করেছিল, তার পরিবারের সদস্যরা চাঁদপুর বেড়াতে যায়। তাই তার বাসার চাবি ভবনের প্রহরী মনিরুল ইসলাম মনুর কাছে ছিল। সেই চাবি দিয়েই ফ্ল্যাটের দরজা খোলা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে এক পর্যায়ে মিরাজ ধর্ষণে জড়িত থাকার তথ্য স্বীকার করে এবং আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হয় মিরাজ।

আকবরশাহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২৯ জানুযারি মিরাজকে ডেকে থানায় আনা হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় ভবনের প্রহরী মনিরুল ইসলাম মনু তিনদিনের রিমান্ডে পুলিশ হেফাজতে ছিল। দুজনের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই ধর্ষণের দায় স্বীকার করে। তবে তাদের মধ্যে মিরাজ দায় স্বীকার করে মঙ্গলবার বিকেলে মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আর প্রহরী মনু জবানবন্দি দেয়নি। এই কারণে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় দফা রিমান্ড আবেদন জানানো হবে।’

২১ জানুয়ারি মীমকে কৌশলে ওই বাসায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণ শেষে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। খুনের পর মীমের মরদেহ ফ্ল্যাট থেকে বের করে সিঁড়ি ঘরে নিয়ে রাখা হয়। সেখান থেকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশ ওই ভবনের প্রহরীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। তখনই পুলিশ ঘটনায় জড়িত সাতজন বলে উল্লেখ করেছিল। সর্বশেষ এ ঘটনায় ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া মিরাজকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় গ্রেপ্তারকৃত সাতজনের মধ্যে ছয়জনই গণধর্ষণের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

মিরাজের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করে আকবরশাহ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) উত্পল বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যে ফ্ল্যাটে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, সেই ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে ভাড়ায় থাকত মিরাজ ড্রাইভার। নিজের পরিবারের সদস্যরা চাঁদপুর বেড়াতে যাওয়ার সময় ফ্ল্যাট খালি ছিল। এ সুযোগে সেখানে মীমকে ধর্ষণ করে এরা।’

আদালত সূত্র থেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির তথ্য অনুযায়ী, মিরাজের বাসা খালি থাকার তথ্য জানত প্রহরী মনু। ঘটনার দিন মনু ফোন করে মিরাজকে। এ সময় তাকে বাসায় যাওয়ার কথা বলে। এতে মিরাজ রাজি হয়ে মনুকে নিয়ে নিজের ফ্ল্যাটে যায়। ফ্ল্যাটে গিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে বেরিয়ে যায় মনু। পাঁচ মিনিট পর পুনরায় বাসার কলিং বেল টিপে মনু। তখন দরজা খোলে মিরাজ। দরজা খোলার পরপরই একটি মেয়েকে (মীম) নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে মনু। সঙ্গে ছিল বিজয়, হাসান, রুবেল, সৈকত ও সুজন। বাসায় প্রবেশ করেই মনু ও বিজয় মেয়েটাকে নিয়ে মিরাজের বেডরুমে চলে যায়। পায়জামা খুলে মুখ বাঁধে। বিজয় মেয়েটির গলায় ছুরি ধরে। এরপরই মনু, বিজয়, লিটন, হাসান, রুবেল, সৈকত এবং শেষে মিরাজ মীমকে ধর্ষণ করে।

স্বীকারোক্তিতে মিরাজ আরও উল্লেখ করে, মনু ও বিজয় মেয়েটার গলা টিপে হত্যা করে। এ সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। অন্ধকারের মধ্যে মনু, বিজয়, সুজন ও সৈকত মরদেহ বের করে সিঁড়ি ঘরে নিয়ে রাখে। অন্যরা যে যার মতো বাসা থেকে চলে যায়। বিদ্যুৎ আসার পর ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।


মন্তব্য