kalerkantho


দীঘিনালায় শিশুধর্ষণ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ধর্ষণের শিকার হতদরিদ্র পরিবারের শিশু (৭) জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধর্ষকের পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। অন্যদিকে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে জানানো হলেও মামলা না করার অজুহাতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অপরাধী রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ওই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি মীমাংসার কথা বলায় সময় দেওয়া হয়েছে।’ আর ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘তিনি ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না।’

জানা যায়, দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের সোবাহানপুর এলাকায় গত ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ওই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার স্থানীয়ভাবে মীমাংসার আশ্বাস, টাকা দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা সর্বোপরি লোকলজ্জার ভয়ে ঘটনাটি প্রকাশ করেনি শিশুটির হতদরিদ্র পরিবার। কিন্তু গত শুক্রবার শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বাধ্য হয়ে তাকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করে। এর পরই জানাজানি হয় শিশুকে যৌন নির্যাতনের এ ঘটনা। শুক্রবার রাতে দীঘিনালা উপজেলা হাসপাতালে কর্তব্যরত উপসহকারী চিকিৎসক মো. রাশেদুল আলম বলেন, ‘শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার। তাই তাকে জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।’

শিশুটির মা জানান, সোবাহানপুর এলাকার আলি আহাম্মদের বাড়িতে যাওয়ার সময় একই এলাকার হাবিব খার ছেলে মো. হানিফ (১৮) শিশুটিকে জঙ্গলে নিয়ে যৌন নির্যাতন চালায়। বিষয়টি ওই শিশু মাকে জানানোর পর তিনি হানিফের পরিবারকে ঘটনাটি জানান। তাঁরা বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য অনুরোধ করে সমাধানের আশ্বাস দেন এবং বলেন জানাজানি হলে মেয়েপক্ষের সম্মানহানি হবে বেশি। ঘটনার আকস্মিকতায় হতদরিদ্র পরিবারটি কী করলে কী হয় সে নিয়ে ভাবনায় পড়ে যায়। এর পরও বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিতভাবে জানানো হয়। কিন্তু কোনো কিছুই হয়নি। এক পর্যায়ে শিশুটি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁরা।

জানতে চাইলে ছোটমেরুং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাছির মিয়া বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তবে মামলা না হওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না। এছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সামাজিক সালিসে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন।’

অপরদিকে মেরুং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রহমান কবির রতন এ ঘটনার কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন।

এদিকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার হেলাল উদ্দিন জানান, বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। ঘটনাটির কোনো স্থানীয় সমাধান নয় বরং তদন্তপূর্বক সঠিক বিচার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

অভিযুক্ত হানিফের পরিবারের কাউকে খোঁজ করেও না পাওয়ায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।



মন্তব্য