kalerkantho


নাগরিক সমাজের সংবাদ সম্মেলন

কক্সবাজারের সম্পদ রক্ষায় এক হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



হোটেল শৈবালসহ কক্সবাজারের ইতিহাস-ঐতিহ্যবাহী মাঠ ও ভূমিসম্পদ রক্ষার দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কক্সবাজার নাগরিক সমাজ। গতকাল শনিবার স্থানীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা ওই দাবি জানান। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সরকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্বার্থে কক্সবাজারের মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। বিশেষ করে অনেকে ভূ-সম্পদ ছেড়ে দিয়েছে। এ কারণে অনেকে বাড়ি-ভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজারের ইতিহাস ও সৌন্দর্যের অংশ শৈবাল হোটেলকে বিতর্কিত ‘ওরিয়ন গ্রুপ’ এর হাতে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। পর্যটন মন্ত্রণালয় ও পর্যটন করপোরেশনের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা যোগসাজশ করে নামমাত্র মূল্যে শৈবাল হোটেল তুলে দিতে পাঁয়তারা করছেন। ১৩০ একরের প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার এই সম্পদ মাত্র ৬০ কোটি টাকায় ৫০ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

কক্সবাজার নাগরিক  সমাজের অভিযোগ, শৈবাল হোটেল ও সাগরিকা রেস্টুরেন্ট কক্সবাজারের ইতিহাস-ঐতিহ্য। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কক্সবাজার আসলে ওই হোটেলের আতিথেয়তা গ্রহণ করতেন। অন্যদিকে শৈবাল হোটেল সংলগ্ন দিঘি মাঠ এবং খোলা জায়গা শহরবাসীর শ্বাস-প্রশ্বাসের স্থান। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ হোটেল একটি বিতর্কিত কম্পানির হাতে তুলে দিলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল আবছার বলেন, ‘কক্সবাজারের পর্যটনের অমূল্য সম্পদ শৈবাল হোটেল কোনোভাবে বেহাত হতে দেওয়া হবে না। আমরা বেঁচে থাকতে তা হতে দেব না। এজন্য আমরা কক্সবাজারবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে জেগে উঠতে হবে।’

জেলা জাসদের সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল বলেন, ‘শৈবাল হোটেল কক্সবাজারবাসীর শ্বাস-প্রশ্বাস। হোটেলটি আমাদের অমূল্য সম্পদ। পর্যটন মন্ত্রণালয় ও পর্যটন করপোরেশনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা হোটেলটি বিক্রি করে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা চুপ থাকলে ওরা সব নিয়ে যাবে। পর্যটনের সম্পদ আমাদের সম্পদ। এটা কাউকে দেওয়া যাবে না। ঐক্যবদ্ধ থেকে আমাদের তা প্রতিহত করতে হবে।’

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘কক্সবাজারকে কোনোভাবেই বিক্রি করতে দেওয়া হবে না। হোটেল শৈবাল রক্ষায় আমরা পর্যটনমন্ত্রীর সাথে কথা বলব। প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাব। আমরা জানি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারের পক্ষে। আমাদের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী হোটেল শৈবালকে বিক্রি হতে দেবেন না।’

তাঁরা সবাই কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী জেলে পার্ক, বাহার গোলচত্বর মাঠ, কলাতলী গণপূর্ত আবাসিক এলাকার দুটি মাঠসহ শহরের ঐতিহ্যবাহী ও ফাঁকা জায়গাগুলো রক্ষার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য প্রিয়তোষ পাল পিন্টু, অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাত, প্রথম আলোর কক্সবাজার অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদক আবদুল কুদ্দুস রানা, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হাসান পলাশ, পিটিআইর সাবেক সুপারিনটেনডেন্ট নাসির উদ্দীন, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কাউন্সিলর হেলাল উদ্দীন কবির, জাসদ নেতা মোহাম্মদ হোসেন মাসু, এনটিভির জেলা প্রতিনিধি ইকরাম চৌধুরী টিপু, সকালের কক্সবাজার সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, পরিকল্পিত কক্সবাজার আন্দোলনের সমন্বয়ক আবদুল আলীম নোবেল।



মন্তব্য