kalerkantho


পটিয়ায় মহাসড়কে ৩ ঘণ্টা অবরোধ

সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধ প্রাণ গেল নারীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধ প্রাণ গেল নারীর

গতকাল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। ছবি : কালের কণ্ঠ

পটিয়ায় সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের আঘাতে জয়নাব বেগম (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে গাজী কনভেনশন হলের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বামী সুচক্রদণ্ডী এলাকার নূরুল আবছার। জয়নাব চার সন্তানের জননী।

সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধের জেরে জয়নাবের মৃত্যুর পর স্থানীয়রা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটি ফেলে মহাসড়কে অবরোধে সৃষ্টি করেন। এ সময় প্রায় তিনঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। সড়কের উভয়পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এবং যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।

অবরোধের এক পর্যায়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এ কে এ এমরান ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এরপর নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে খুনিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধকারীরা অবরোধ তুলে নেন।

ঘটনার বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নিহত জয়নাব বেগমের স্বামী আবছারের সঙ্গে কমিউনিটি সেন্টারের সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে দুপক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে ইটপাটকেলের আঘাতে জয়নাব গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়রা জানান, গাজী কনভেশন সেন্টার নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। নূরুল আবছারের অভিযোগ ছিল কনভেনশন সেন্টারের অভ্যন্তরে তাঁর প্রায় পাঁচ ফুট জমি আছে। এই নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রতিবেদন দেওয়ার পর তিনি পটিয়া থানায় মামলা করেন। এছাড়া কয়েকদিন আগে রাতের অন্ধকারে সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর কনভেশন সেন্টার মালিকপক্ষ পটিয়া থানায় অভিযোগ দেন। দুপক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই গতকাল ঝগড়া এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে শনিবার রাতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম এমরান ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুপক্ষের বিবাদের সময় জয়নাব বেগমের মৃত্যু হয়েছে। এখন কী কারণে মৃত্যু হয়েছে সেটা বলা মুশকিল। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলা যাবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নিহত জয়নাব বেগমের স্বজনদের দাবি ঝগড়ার সময় প্রতিপক্ষের ছুড়ে মারা ইটের টুকরোর আঘাতে জয়নাব বেগমের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক জয়নাব বেগমের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাননি।’

তিনি জানান, পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, ঝগড়ার একপর্যায়ে অতিরিক্ত উত্তেজনার কারণেও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ জয়নাবের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। আবার নিহতের স্বজনরা দাবি করছেন, প্রতিপক্ষের ইটের আঘাত নিহতের বুকে লেগেছিল। তাই সবদিক বিবেচনা নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘নিহতের ছেলে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন।’



মন্তব্য