kalerkantho


হতে যাচ্ছিল আরেক ‘ছুটির ঘণ্টা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



হতে যাচ্ছিল আরেক ‘ছুটির ঘণ্টা’

উদ্ধার হওয়া তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী স্মৃতি মণি ও মণি দে। তখনও তাদের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। ছবি : কালের কণ্ঠ

স্কুলছুটি শেষে সব শিক্ষার্থী স্কুলপ্রাঙ্গণ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে আয়াও চলে যান নিজবাড়িতে। সুনসান নীরবতা স্কুলপ্রাঙ্গণে। এমন সময় দুই শিশুর গগনবিদারী কান্নায় পার্শ্ববর্তী সড়কের পথচারীরা এগিয়ে আসেন। তখন স্কুলের সব গেটে ঝুলছে তালা।

সীমানাপ্রাচীর টপকে বেশ কয়েকজন পথচারী ঢোকলেন স্কুল প্রাঙ্গণে। দেখতে পেলেন স্কুলের বারান্দার কলাপসিবল গেটের ভেতর আটকা পড়েছে দুই শিশু শিক্ষার্থী। পরে তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করা হয়।

দর্শকের চোখে পানি আনা সেই বাংলা চলচ্চিত্র ‘ছুটির ঘণ্টা’র সঙ্গে মিলে যাচ্ছিল ঘটনাটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর ডিসি হিল এলাকার সরকারি ন্যাশনাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া স্মৃতি মণি ও মণি দে ওই স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, থানা শিক্ষা কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা মজুমদার, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকা বদরুননেসা প্রমুখ। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্কুল প্রাঙ্গণে লোকজনের ভিড় জমে যায়।  

দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা মো. শেরখান নামের এক কিশোর বলেছে, ‘স্কুল সংলগ্ন আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ শুনতে পাই একাধিক শিশু অস্বাভাবিকভাবে কান্না করছে। কান খাড়া করে শুনলাম। কান্নার শব্দ স্কুলভবনের দিক থেকে আসছে বলে মনে হল। স্কুলের মূল ফটক বন্ধ। পেছন দিয়ে দেয়াল টপকে কয়েকজন পথচারীসহ আমরা ঢোকলাম স্কুল প্রাঙ্গণে। দেখতে পাই স্কুলের ভেতর দুই শিশু আটকা। তখন স্কুলে কেউ নেই। পরে তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করলাম।’ শেরখান আরো বলে, ‘আমি নিজেও ওই স্কুলের ছাত্র ছিলাম। শিশু দুটি উদ্ধার না হলে শুক্রবারও আটকা থাকত তারা। এতে বড় অঘটন ঘটতে পারত।’  খবর পেয়ে বিমান অফিস এলাকা থেকে স্কুলে ছুটে আসেন স্মৃতি মণির মা ফিরোজা বেগম। তিনি বলেন, ‘লোকমুখে খবর পেলাম আমার মেয়ে স্কুলে আটকা পড়েছে। সারা শরীর কাঁপছিল। পড়িমরি করে ছুটে এলাম।’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক বদরুননেসা জানান, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে এক হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী আছে। এর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণিতে আছে ১৫০ জন। দোতলায় তাদের শ্রেণিকক্ষ। আমাদের শ্রেণিকক্ষগুলো খোলা থাকে। ভবনের মূল প্রবেশ মুখে কলাপসিবল গেটে তালা দেওয়া হয়।

বদরুননেসা বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি অন্য ছাত্রছাত্রীরা যখন ছুটি শেষ বাড়ি ফিরে যাচ্ছিল তখন তারা ফুচকা কিনে এনে শ্রেণিকক্ষে বসে খাচ্ছিল। আয়া তাদের দেখেনি। তাই ভবনের কলাপসিবল গেটে তালা দিয়ে চলে যায় আয়া। আগামীতে এ ব্যাপারে আমরা আরও মনোযোগী হব।’

স্থানীয় কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন বলেন, ‘অভিভাবকদের হাতে দুই শিশুকে তুলে দেওয়া হয়েছে। একজনের মা-বাবা এসেছেন। অন্যজনকে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেই ব্যাপারে স্কুলের শিক্ষক, কর্মী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সচেতন করব। এ যাত্রা একটি বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেল দুই শিশু।’



মন্তব্য