kalerkantho


বান্দরবানের ৪৪ প্রাইমারি স্কুলে অনুমোদন না নিয়ে মাধ্যমিক স্তর চালু

জেএসসি দিতে পারছে না শিক্ষার্থীরা

মনু ইসলাম, বান্দরবান   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে বিপাকে পড়েছে।

সরকারি অনুমোদন না থাকায় মাধ্যমিক পর্যায় চালু হওয়া ৪৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ বিদ্যালয় থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোমা রাণী বড়ুয়া জানান, এসব বিদ্যালয় নতুন বছর শুরুর ১৫ দিন পরও বিনা মূল্যের বই সরবরাহ পায়নি। এ অবস্থায় ৩৮ বিদ্যালয়ে এখনও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।

১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ তথ্য জানান। সভায় উপস্থিত জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিকসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রধানরা এ তথ্যে শিক্ষা বিকাশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

সোমা রাণী বড়ুয়া বলেন, ‘মাধ্যমিক স্তর চালু হওয়া বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকের অভাব, অপর্যাপ্ত মনিটরিং এবং শ্রেণি কক্ষে পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে বান্দরবান জেলার মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’

তিনি জানান, সরকারি অনুমোদন না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অষ্টম শ্রেণিতে সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় অন্য কোন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশন নিতে বাধ্য হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘মানবিক কারণে ভর্তি করাতে গিয়ে উচ্চ বিদ্যালয়গুলোর কাধে চাপছে পিছিয়ে পড়া এসব শিক্ষার্থীর খারাপ ফলাফলের দায়।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লিটন কান্তি বড়ুয়া জানান, বান্দরবান জেলায় ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের কারিকুলাম অনুযায়ী পাঠদান করা হচ্ছে। এসব বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

তিনি জানান, অবশিষ্ট ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত পাঠদান চালু হয়েছে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অনুমোদনে।

ফলে পুর্বানুমতি না থাকায় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার জন্যে বোর্ড কর্তৃপক্ষ বর্ণিত ৩৮টি বিদ্যালয়ের অনুকূলে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন দিতে রাজি হচ্ছে না।

লিটন বড়ুয়া জানান, এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পার্শ্ববর্তী কোন উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে নিবন্ধিত হতে হচ্ছে।

এদিকে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সোমা বড়ুয়া জানান, দোদুল্যমান অবস্থার কারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাধ্যমিক স্তর চালু হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো চলতি বছরে মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের কোনো চাহিদা পাঠায়নি। ফলে  তারা এখনও সরকারি কর্মসূচির বিনা মূল্যের পাঠ্য বই সরবরাহ পায়নি।

তিনি জানান, এর পরও অনুমানের ভিত্তিতে চাহিদা পাঠিয়ে ষষ্ট থেকে অষ্টম শ্রেণির বইয়ের সরবরাহ নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে পর্যাপ্ত বই মজুদ আছে। চাহিদা পেলেই বইয়ের সরবরাহ দেওয়া যাবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতে এমন জটিলতার তথ্য গোপন রেখে দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক। তিনি জানান, জরুরিভিত্তিতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর করা হবে।



মন্তব্য