kalerkantho


যুদ্ধাপরাধীর দেহরক্ষীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী ঘটনায় কক্সবাজারে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



যুদ্ধাপরাধীর দেহরক্ষীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী ঘটনায় কক্সবাজারে তোলপাড়

পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নে দিনদপুরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। রবিবার কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় শনিবারের ওই ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্যদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া সভায় পেকুয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খানকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়।

শনিবার শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী মগনামা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছকে হত্যার প্রচেষ্টা চালায়। এ সময় এরা ইউনুছের ঘরে হানা দিয়ে শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে ইউনুছকে ধরে দিগম্বর করে লবণ মাঠে নিয়ে যায়। এরা তাঁর স্ত্রীর কাপড়-চোপড়ও ছিড়ে ফেলে। এতে গুরুতর আহত হন ইউনুছসহ ১০ জন। ওই ঘটনায় নেতৃত্ব দেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর দেহরক্ষী, সাবেক শিবিরক্যাডার ও মগনামা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম। অভিযোগ ওঠেছে, পেকুয়া থানার ওসির নীরব ভূমিকার কারণেই ঘটেছে এমন ঘটনা।

এদিকে শনিবারের ঘটনার ব্যাপারে রবিবার সকালে পেকুয়া থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। এতে শরাফত উল্লাহ ওয়াসিমকে প্রধান করে ৩৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অর্ধ শতাধিক সন্ত্রাসীকে আসামি করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন সন্ত্রাসী হামলার শিকার ইউনুছের ভাই সরওয়ার কামাল চৌধুরী। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় কয়েকজন বক্তা অভিযোগ করে বলেন, চকরিয়ার একজন ‘বিতর্কিত’ আওয়ামী লীগ নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় মগনামা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও যুদ্ধাপরাধীর দেহরক্ষী শতাধিক সন্ত্রাসী নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যানের ঘরে হামলা চালিয়েছে।  দিনভর ওই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা সত্ত্বেও পেকুয়া পুলিশের নীরব ভূমিকায় বক্তারা তীব্র সমালোচনা করেন।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা সভায় বলেন, ‘পেকুয়া থানার ওসি একটানা ৫/৬ বছর ধরে কক্সবাজারে রয়েছেন। তিনি এর আগে উখিয়া, চকরিয়া ও কুতুবদিয়া থানায় ওসি ছিলেন। তাঁর কর্মজীবনে সুনামের চেয়ে দুর্নামই বেশি। এ কারণে তাঁকে এ মুহূর্তেই পেকুয়া থেকে প্রত্যাহার করা দরকার।’

তিনি জানান, সাবেক শিবিরক্যাডার ওয়াসিম একাধারে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী এবং মাদক কারবারি। অপরদিকে হামলার শিকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও অনেক মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে। আর সেই সরকারের শেষ সময়ে যুদ্ধাপরাধীর দেহরক্ষীর নেতৃত্বে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আমাদের জন্য অশনিসংকেত।’

তিনি যুদ্ধাপরাধীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা দেওয়ার জন্য পেকুয়া থানার ওসি এবং চকরিয়ার একজন ‘বিতর্কিত’ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও দলীয় কঠোর ব্যবস্থা নিতে দাবি জানান।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান সভায় শনিবারের ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের উত্তরসূরি এবং বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা সরকারের বিদায়ী বছরে পরিস্থিতি অশান্ত করতে মগনামায় টেস্ট কেইস হিসেবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাই ঘটনার ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কষ্ট হবে।’

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি বলেন, ‘সাবেক শিবিরক্যাডার শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। এই সন্ত্রাসী বিএনপির টিকিট নিয়ে বিগত নির্বাচনে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে পেকুয়া থানার ওসির সঙ্গে সখ্যতা করে সে সাগরতীরের মগনামা ইউনিয়নে গড়ে তুলে একটি বড় সন্ত্রাসী বাহিনী।’

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘এই সন্ত্রাসী বাহিনীকে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম।’ অপরদিকে জাফর আলম ওই অভিযোগ নাকচ করে দেন।

সভায় জেলা পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, ‘ব্যাপক অভিযোগের ভিত্তিতে চকরিয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খানের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য